“আনিসুলের বান্ধবীর ১১৪ ব্যাংক হিসাব আদালতে অবরুদ্ধ”

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩০ বার
“আনিসুলের বান্ধবীর ১১৪ ব্যাংক হিসাব আদালতে অবরুদ্ধ”

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকার আদালত সোমবার সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ব্যক্তিগত সহকারী ও বান্ধবী তৌফিকা করিমের ১১৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন। এসব হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৬৫৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আদালতের এ সিদ্ধান্ত মানবাধিকার ও আর্থিক স্বচ্ছতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজের আদালতে এই আদেশ দেন। তৌফিকা করিমের নামে থাকা এই ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করেন সিআইডির উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম) মনিরুজ্জামান। সিআইডির আবেদনে বলা হয়, তৌফিকা করিম সাবেক আইনমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে আসামিদের জামিন, সরকারি নিয়োগ, বদলি ও তদবিরের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই অর্থ দিয়ে তৌফিকা ফ্ল্যাট, গাড়ি ও জমি ক্রয় করেছেন। পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাচারের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগও রয়েছে। তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে পরিচালিত এই ১১৪টি ব্যাংক হিসাবের মোট জমা অর্থ ৬৫৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫৮ হাজার ১৩১ টাকা এবং উত্তোলন ৫৬৬ কোটি ৩৮ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ টাকা। বর্তমানে হিসাবগুলোর স্থিতি ৮৬ কোটি ৯৮ লাখ ৪০ হাজার ৫৫৬ টাকা।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, এই অর্থের মাধ্যমে তৌফিকা এবং তার সংশ্লিষ্টরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে অবৈধ লেনদেন করেছে এবং তা বিভিন্ন দেশে পাচার করেছে। বিষয়টি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ২ (শ) (২৬) ও (১৪) ধারা অনুযায়ী সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এ কারণে আদালত এই ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তৌফিকা করিম ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই ১১৪টি ব্যাংক হিসাব থেকে কোনো আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন না। এই পদক্ষেপ মূলত অবৈধ অর্থ উপার্জন ও পাচারের প্রমাণ সংগ্রহ ও তদন্তের সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের আর্থিক সিস্টেমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও তাদের ঘনিষ্ঠদের অবৈধ অর্থকাণ্ড নিরসন করতে আদালতের এ ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, এটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সমাজের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করবে যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানিলন্ডারিং কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

সিআইডি সূত্র আরও জানিয়েছে, এই মামলার তদন্ত এখনও চলছে। সংশ্লিষ্ট সমস্ত আর্থিক নথি, লেনদেনের প্রমাণ এবং আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগের যথার্থতা নির্ধারণ করা হবে। তাছাড়া, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আদালতের এ পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণ জনগণ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি যুগান্তকারী ঘটনা হতে পারে। বিশেষত উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে সরকার ও আদালত সমাজে সংবেদনশীল বার্তা প্রেরণ করেছে যে, ক্ষমতা ও প্রভাবের অপব্যবহার শাস্তির বাইরে নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অর্থ সম্পর্কিত দুর্নীতির ঘটনায় জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আদালতের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যদেরও সতর্ক করবে এবং আর্থিক দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অবরুদ্ধ হিসাবের কোনো লেনদেন বা স্থানান্তর করা যাবে না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে এই নির্দেশ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। তৌফিকা করিমের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আদালতের এ আদেশ পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত