প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার পিআর বা সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির প্রতি তাদের দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এই পদ্ধতির বিপক্ষে, কারণ এটি স্থায়ী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিতিশীলতা বাড়ায়। বরং বিএনপি বিশ্বাস করে জনসংযোগ বা পাবলিক রিলেশন (Public Relation) পদ্ধতিতে, যা জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক।
সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, পিআর পদ্ধতি কার্যকরভাবে একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্টের সৃষ্টি করে, যেখানে স্থায়ী সরকার গঠন করা কঠিন হয়ে যায়। তিনি বলেন, “বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির কারণে সরকার কখনো স্থায়ী হয় না এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সবসময় অস্থিতিশীল থাকে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান করে এবং সমন্বিত রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাদের লক্ষ্য ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার সঙ্গে সমন্বয়পূর্ণ রাজনীতি পরিচালনা করা। তিনি বলেন, “আমরা ধর্মীয় ভিত্তিতে রাজনীতিতে বিভাজন চাই না, করি না, এবং ভবিষ্যতেও করব না। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের জনগণের সমৃদ্ধি, স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।”
সালাহউদ্দিন আহমেদ এসময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তিনি দলের পক্ষ থেকে জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন যে, বিএনপি সবসময় দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মূল্যবোধের প্রতি সমর্থন জারি রাখবে।
তিনি জানান, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি জনগণকে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ কমিয়ে দেয় এবং স্থায়ী সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করে। বিএনপি মনে করে, সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেজরিটির ভিত্তিতে সরকার গঠন করা বেশি কার্যকর।
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, জনসংযোগের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের চাহিদা ও মতামত বোঝা সম্ভব। তাই বিএনপি এই পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং তাদের অভিমত বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটাই আমাদের মূলনীতি।”
তিনি সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা প্রদান করে বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যদি বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে জনগণই সেই অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাবে। বিএনপি বিশ্বাস করে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই নেতা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিআর পদ্ধতির ব্যবহার ঝুলন্ত পার্লামেন্ট এবং অস্থিতিশীল সরকারী ব্যবস্থার দিকে ধাবিত করছে। তাই জনগণ সচেতন হওয়া প্রয়োজন এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় সংহতি এবং নাগরিক অধিকারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। দেশের রাজনীতিতে সমন্বয় এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দলটি সব সময় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের কাছে জানান, বিএনপি কখনোই সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করতে চাইবে না। বরং জনগণকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে স্থায়ী ও সুষ্ঠু সরকার গঠনের লক্ষ্য থাকবে।
তিনি বলেন, “আমরা জনগণের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে তাদের সমস্যাগুলি চিহ্নিত করি এবং আমাদের নীতিনির্ধারণে তাদের মতামতকে অন্তর্ভুক্ত করি। এটি আমাদের দলকে আরও শক্তিশালী ও জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলে।”
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির মূলনীতির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সমন্বয়পূর্ণ রাজনীতির সঙ্গে জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনই দলের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সব ধরনের বিভাজন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং স্বার্থসংক্রান্ত জটিলতার বাইরে জনগণের কল্যাণে কাজ করে। দেশের রাজনীতি যেন আরও স্থিতিশীল এবং গণতান্ত্রিক হয়, সেটি নিশ্চিত করতে দলটি সর্বদা সচেষ্ট।
সালাহউদ্দিন আহমেদের এই বক্তব্য মূলত বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কৌশল এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির প্রতি দলের অবস্থান স্পষ্ট করছে। দলটি জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে চাইছে।
এই ধরনের অবস্থান বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, যেখানে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং জনগণের অংশগ্রহণকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ধরনের বক্তব্য দলের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল ও জনগণের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধির প্রচেষ্টা হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।










