কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭২ বার
কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা নিহত

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের নতুন মহাল বাজারে সোমবার রাত ৮টার দিকে এক ভয়াবহ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর যুব শাখার একজন নেতা নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম আমজাদ হোসেন (২৫), তিনি চৌফলদণ্ডী নতুন মহাল ইউনিটের যুব শাখার সেক্রেটারি ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি ওই এলাকার মৃত নুরুল কবিরের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার মূল কারিগর রাফি নামের একজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা। রাফি চৌফলদণ্ডী ৩নং ওয়ার্ড শাখার সভাপতি এবং একই এলাকার ছৈয়দ নূরের ছেলে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমার জের ধরে রাফি ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমজাদকে আক্রমণ করেন। হামলায় তার পেটে দুটি এবং পিঠে একটি গুরুতর ক্ষত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঈদগাঁও হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পথেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নিহতের বড় ভাই ও কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমজাদ হোসেন দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফিরে তিনি জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগে সক্রিয় হন। তার বিয়ের আয়োজনও সামনে ছিল। তিনি জানান, ছাত্রলীগের চিহ্নিত অস্ত্রধারীরা পূর্ব-শত্রুতির জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। হত্যাকাণ্ডে রাফি ও তার ভাগ্নে মোফাচ্ছেলের নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী অংশ নেয়।

কক্সবাজার সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগ নেতা রাফি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এলাকার জমি দখল ও মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছিল। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে আমজাদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে জেলা ছাত্রদল, বিএনপি এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গভীর রাতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভকারীরা খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান জানান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডার রাফির নেতৃত্বে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান বলেন, নিহতের লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি জানান, এখনও এ ঘটনায় কোনো এজাহার দায়ের হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইউপি সদস্য এহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এই হামলার পেছনে মূলত রাজনৈতিক প্রভাব ও জমিসংক্রান্ত বিরোধ কাজ করেছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র নিয়ে উপস্থিত ছিল এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছিল।

এই হত্যাকাণ্ড কক্সবাজারের স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

নিহতের পরিবার এবং রাজনৈতিক নেতারা একযোগে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে মূল হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে মানুষের জীবনহানি হতে দিতে হবে না।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত আছে। তাদের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্থানীয়রা জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় এবং পূর্বের বিরোধের তথ্য রয়েছে।

নিহত আমজাদ হোসেন কক্সবাজারের স্থানীয় যুব সমাজের মধ্যে পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর যুব শাখায় সক্রিয় এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রদায়ের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করতেন। তার আকস্মিক মৃত্যু এলাকায় শোক এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কক্সবাজারে রাজনৈতিক সহিংসতার এই ধারা নিয়ন্ত্রণ না করলে স্থানীয় শান্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটে যাওয়া এই ধরনের হত্যাকাণ্ড সমাজের জন্য বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণও উদ্বিগ্ন। তারা জানান, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সহিংসতা রোধে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।

নিহতের পরিবার, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এবং স্থানীয় জনগণ একত্রিত হয়ে দাবি জানাচ্ছেন, এই ধরনের হত্যাকাণ্ড যেন আর কখনও সংঘটিত না হয়। তারা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে দ্রুত এবং ন্যায়সংগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

এভাবে, কক্সবাজারে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধের ফল নয়, বরং এটি স্থানীয় সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাধারণ জনগণও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।

নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে এলাকার মানুষ ও রাজনৈতিক নেতারা শোক প্রकट করবেন এবং একই সঙ্গে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য আরও তৎপর হবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত