খালেদা জিয়ার নির্বাচনী ভূমিকা নিয়ে তারেক রহমানের খোলামেলা সাক্ষাৎকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৯ বার
জনগণই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু: বিএনপির ভবিষ্যৎ ভাবনায় তারেক রহমান

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাই

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর প্রথমবারের মতো একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে মুখোমুখি সাক্ষাৎকার দিলেন। বিবিসি বাংলার কাছে দেওয়া এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের অবস্থান, কৌশল, আওয়ামী লীগের রাজনীতি, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রশ্ন, এবং দলীয় নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশদভাবে মতামত প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, তারেক রহমান সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা এবং তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দলের দৃষ্টিভঙ্গি।

সাক্ষাৎকারে প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে, আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়া কোনো সরাসরি ভূমিকা রাখবেন কি না। জবাবে তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে অতীতের মতো এবারও তার অবস্থান ধরে রাখবেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, দেশে যতবার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ হয়েছে, খালেদা জিয়া প্রতিবারই আপোষহীন লড়াইয়ের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন। তারেক রহমানের ভাষায়, “বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে কিভাবে খালেদা জিয়ার ওপর স্বৈরশাসন সময়ে নিপীড়ন নেমে এসেছিল। জেল খাটতে হয়েছে তাকে মিথ্যা মামলায়। একজন সুস্থ মানুষ জেলে গিয়েছিলেন, কিন্তু ফিরেছেন অসুস্থ অবস্থায়। চিকিৎসার সুযোগ থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। তবুও তার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অবদান জনগণ ভুলবে না।”

তিনি জানান, যদি খালেদা জিয়ার শারীরিক সক্ষমতা অনুমতি দেয় তবে তিনি আসন্ন নির্বাচনে অবশ্যই কোনো না কোনোভাবে ভূমিকা রাখবেন। তবে সেই ভূমিকা সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তারেক রহমান এটিকে সময় ও শারীরিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারে বিএনপির নেতৃত্বের প্রশ্নও উঠে আসে। প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দীর্ঘকালীন নেত্রী খালেদা জিয়ার পর দলটির নেতৃত্ব এখন কার্যত তারেক রহমানের হাতে। বিএনপির নেতৃত্ব কি পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, রাজনীতি পরিবারকেন্দ্রিক নয়, বরং জনগণের সমর্থনের ভিত্তিতে এগোয়। তারেক রহমান উদাহরণ টেনে বলেন, “চিকিৎসকের সন্তান সবসময় ভালো চিকিৎসক হয় না, আইনজীবীর সন্তান সবসময় ভালো আইনজীবী হয় না। রাজনীতিতেও তাই। কেউ সফল হন, কেউ হন না। তবে আমি নিজে গত ১৭ বছর ধরে রাজনীতিতে নিপীড়ন, মিথ্যা মামলা, জেল-জুলুম, শারীরিক নির্যাতন সবকিছু সয়েও টিকে আছি। এ অভিজ্ঞতাই আমাকে পরিপক্ব করেছে।”

তারেক রহমান আরও জানান, রাজনীতিতে এগিয়ে যাওয়ার মাপকাঠি হলো জনগণের সমর্থন এবং দলকে সংগঠিত করে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। যদি কেউ সেই সামর্থ্য প্রমাণ করতে পারেন তবে তিনিই নেতৃত্ব দেবেন, নচেৎ পারবেন না। তিনি বিশ্বাস করেন সময়ই প্রমাণ করবে কে দলকে সামনে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।

এছাড়া আলোচনায় উঠে আসে তারেক রহমানের পরিবারের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গও। অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে, তার স্ত্রী বা কন্যা ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসবেন কি না। এর জবাবে তিনি বলেন, এসব বিষয় সময় ও পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে। এ নিয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না দিলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরিবারের কেউ রাজনীতিতে আসতে পারেন।

সাক্ষাৎকারের পুরোটা জুড়েই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও ক্ষমতার ধরন নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থান তুলে ধরেন। তার দাবি, বিগত কয়েক বছরে দেশজুড়ে বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী মিথ্যা মামলা, জেল-জুলুম, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি নিজেও এসব ভোগান্তির মধ্য দিয়ে গেছেন বলে উল্লেখ করেন। তারেক রহমান মনে করেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের প্রথম ধাপ হবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এ লক্ষ্যে বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

তারেক রহমানের এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় দুই দশক পর কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিয়ে তিনি শুধু দলের অবস্থানই পরিষ্কার করেননি, বরং বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনী রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ দিকও উন্মোচিত করেছেন। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা, তার স্বাস্থ্যগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত এবং বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সম্পর্কে তার বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই সাক্ষাৎকার বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র করবে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন আকার পাবে। সর্বোপরি, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ভূমিকা এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত