শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিদেশি অর্থ অনুসন্ধান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২০ বার
শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিদেশি অর্থ অনুসন্ধান

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের পাশাপাশি দেশের ১০টি বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যৌথ অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই অনুসন্ধান কাজটি ত্বরান্বিত করতে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আন্তর্জাতিক ১২টি প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্ত করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীতে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৩০টিরও বেশি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বৈঠক শেষে ইসলামী বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান সাংবাদিকদের জানান, আন্তর্জাতিক ল’-ফার্ম ও অ্যাসেট রিকভারি সংস্থাগুলোকে (মোট ১২টি) এনগেজ করা হবে, যারা বিদেশে গিয়ে থাকা অর্থ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।

এই প্রকল্পে কিছু ব্যাংক লিড ব্যাংক হিসেবে কাজ করবে এবং একাধিক ব্যাংক মিলে কনসোর্টিয়াম গঠন করবে। এরপর আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে গোপন চুক্তির মাধ্যমে এগ্রিমেন্ট সম্পন্ন হবে এবং রিকভারি প্রক্রিয়ার পর দেখা হবে, টাকা কীভাবে নিরাপদভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

ওমর ফারুক আরও জানান, স্পেশাল সিআইডি প্রাথমিকভাবে মোট ১১টি স্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর নাম শনাক্ত করেছে। গোপনীয় চুক্তি ও কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ শুরু হবে। মূল উদ্দেশ্য হলো, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ শনাক্ত করে তা বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা।

এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, এই প্রকল্পের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংকের পরামর্শ নেওয়া হয়নি। এটি একটি ‘টোটাল ব্যাংকিং’ কনসেপ্ট, যেখানে দেশের অনেক ব্যাংককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সভায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করে এই যৌথ উদ্যোগকে বাস্তবায়ন করা হবে।

পূবালী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আলী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক মানি-লন্ডারিং সংক্রান্ত প্রেক্ষাপটে ওই ১২টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে এনডিএ (Non-Disclosure Agreement) অনুযায়ী ফরেন অ্যাসেট রিকভারি কাজ করতে নির্দেশ দেবে। এর মাধ্যমে বিদেশে থাকা অর্থ দ্রুত শনাক্ত ও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

তদন্ত তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ছাড়াও উল্লেখযোগ্য শিল্পগোষ্ঠীগুলো হলো—আরামিট গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো, বসুন্ধরা, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, ওরিয়ন, জেমকন, নাবিল এবং সামিট। এই গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের কিছু অংশ অভিযোগ অনুযায়ী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের কাছে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে অর্থ পুনরুদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে প্রকল্পটি সফল করতে আন্তঃব্যাংক সমন্বয়, তথ্যের স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার দক্ষতা অপরিহার্য।

অধিকাংশ ব্যাংক এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে এবং প্রত্যেকটি ব্যাংককে প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে পুরো প্রকল্পকে টেকসই ও কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক আইন ও প্রক্রিয়ার সাথে সমন্বয় সাধন করে অর্থ পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে মানি-লন্ডারিং ও অবৈধ অর্থ পাচারের ঘটনা বছরের পর বছর ধরে উদ্বেগের বিষয় হয়ে এসেছে। এই ধরনের অনুসন্ধান ও রিকভারি প্রক্রিয়া দেশের আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রতি আস্থা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণের মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে, বিদেশে থাকা অবৈধ অর্থের উৎস সনাক্তকরণ, প্রক্রিয়াগত বাধা নিরসন এবং বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সহজতর হবে। এটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

অবশেষে বলা যায়, শেখ হাসিনা ও ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই যৌথ অনুসন্ধান কার্যক্রম দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা, দুর্নীতি দমন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত