প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বাজারে আজ বৃহস্পতিবার (০৯ অক্টোবর) স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ লাখ ৯ হাজার ১০১ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বুধবারের তুলনায় ৬ হাজার ৯০৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক ঘোষণা করা হয়েছে। বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্য বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতি।
আজকের নতুন মূল্যে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ১০১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫ টাকা এবং ৯৪ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৮ টাকা। সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩০১ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন, কারুকাজ ও মানভেদে মজুরির তারতম্য থাকতে পারে।
গতকাল অর্থাৎ ৮ অক্টোবর দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২ হাজার ১৯৫ টাকা। সেই সময় দাম বাড়ানো হয়েছিল ১ হাজার ৪৬৯ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩১ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি দাম রাখা হয়েছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭২ টাকা।
এ পর্যন্ত চলতি বছর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৬৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ১৮ বার দাম কমানো হয়েছে। ২০২৪ সালে দেশে স্বর্ণের দাম ৬২ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৫ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ২৭ বার কমানো হয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে দেশের বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও স্বর্ণের মূল্যের উপর প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে এখন স্বর্ণ ক্রয় ও বিক্রির ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
বাজুসের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখা হচ্ছে। ক্রেতারা সাধারণত তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দিকে বেশি আকৃষ্ট হন। এই ধরনের স্বর্ণের দাম নিয়মিত সমন্বয় করা হয় যাতে ক্রেতাদের এবং জুয়েলার্স উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মনোযোগও স্বর্ণের দিকে বেশি যাচ্ছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে মানুষ এখন স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছেন। এছাড়া বিবাহ, পূজা-পার্বণ ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে স্বর্ণের চাহিদা এখন আগের তুলনায় আরও বেড়ে গেছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতাদের মধ্যে এখন যথাযথ বাজার জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। কখন ক্রয় করতে হবে এবং কখন বিক্রি করা যায় তা বোঝার জন্য ক্রেতাদেরকে বাজারের দামের ওঠানামা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা দেশের বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের জন্য পরামর্শ হলো, স্বর্ণ ক্রয়ের আগে দাম এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থা বিবেচনা করা। এছাড়া বাজারে অতিরিক্ত চাপে মূল্য বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সাবধান থাকা প্রয়োজন। দেশের বাজারে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রির জন্য বাজুসের পরামর্শ মেনে চলা ক্রেতাদের জন্য লাভজনক হতে পারে।
দেশের বাজারে স্বর্ণ ক্রয় ও বিক্রির ক্ষেত্রে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন প্রকার সমন্বয় ঘটেছে। ক্রেতারা এখন সরাসরি জুয়েলার্সের কাছ থেকে কিনছেন এবং বাজারের বর্তমান মূল্যের সঙ্গে খাপ খাইয়ে থাকছেন। বাজুস নিয়মিতভাবে বাজার পর্যবেক্ষণ করে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয় করে থাকে।
বর্তমানে দেশে স্বর্ণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হার বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রেতাদেরকে এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে বিনিয়োগ করা উচিত।
স্বর্ণের বাজারে চলমান এই অবস্থায় সাধারণ ক্রেতারা যেমন স্বর্ণ ক্রয়ে সচেতন, তেমনি জুয়েলার্সরাও বাজারের ওঠানামা এবং ক্রেতাদের চাহিদার দিকে খেয়াল রাখছেন। স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি ও বাজারের অবস্থা ক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় নিয়মিতভাবে করা হচ্ছে যাতে ক্রেতা ও জুয়েলার্স উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।