শেখ হাসিনাসহ ডিজিএফআইর পাঁচ প্রধানের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা – আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১২৪ বার
শেখ হাসিনাসহ ডিজিএফআইর পাঁচ প্রধানের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা - আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গুমের দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ডিজিএফআই-এর সাবেক পাঁচ প্রধানসহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। পরোয়ানাগুলো আইজিপি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য বাহিনীর প্রধানসহ ১২টি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এই তথ্য ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানা গেছে।

এই মামলা দুটি আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত গুমের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। বুধবার ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুনানি শুরু হয়। ওই দিন তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার আদেশ চেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত তা আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরোয়ানা প্রাপ্তদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর পাঁচ সাবেক প্রধানও রয়েছেন। এছাড়া পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদও অভিযুক্তদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

পরোয়ানা পাওয়া অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে ডিজিএফআই, র‌্যাব ও সিটিআইবির বিভিন্ন পদে কর্মরত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে তিনজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল, পাঁচজন মেজর জেনারেল, ছয়জন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, তিনজন কর্নেল এবং পাঁচজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রয়েছেন। মোট ২৩ জনই সামরিক কর্মকর্তা এবং তাদের মধ্যে ১১ জন এখনও সক্রিয়ভাবে সশস্ত্র বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন।

আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা অভিযুক্তদের আগামী ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই তারিখে তাদের উপস্থিত থেকে শুনানি সম্পন্ন করতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল মামলাগুলোর দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে চাচ্ছে।

মামলাগুলোর মূল বিষয় হলো গুমের ঘটনার দায়ের, যার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্তরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ট্রাইব্যুনালের এই কার্যক্রম স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

পরোয়ানা প্রাপ্তদের মধ্যে যারা এখনও সশস্ত্র বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের গ্রেপ্তার ও আদালতে হাজিরা নিশ্চিত করার মাধ্যমে মামলাগুলোতে স্বচ্ছতা এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া চালু রাখার লক্ষ্য রয়েছে।

এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সামাজিক, রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মামলা ও ট্রাইব্যুনালের পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠাচ্ছে। তারা বলছেন, এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বশীলতা ও বিচার ব্যবস্থার সক্ষমতাকে সামনে আনার একটি প্রয়াস।

ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তাদের আইনগত অধিকার এবং ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া বজায় রাখা হবে। এ জন্য ট্রাইব্যুনাল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করছে।

উলেখ্য শেখ হাসিনা ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত