অবশেষে স্বপ্নপূরণ: বাংলাদেশ দলে কিউবা মিচেল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫১ বার
অবশেষে স্বপ্নপূরণ: বাংলাদেশ দলে কিউবা মিচেল

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন অধ্যায় যেন শুরু হতে যাচ্ছে কিউবা মিচেলের হাত ধরে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর অনিশ্চয়তার পর অবশেষে জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা এই তরুণ ফরোয়ার্ড। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের অনেকের কাছেই এই খবর এখন আশার আলো হয়ে এসেছে—যেন বহুদিনের প্রত্যাশিত এক সম্ভাবনার সূচনা।

গত ৩০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নভেম্বর উইন্ডোর অনুশীলন ক্যাম্পে কোচ হাভিয়ের কাবরেরা শুরুতে কিউবাকে ডাক দেননি। সেই সময় ঘোষিত ২৭ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াডে তার নাম না থাকায় হতাশ হয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু ফুটবল যেমন অনিশ্চয়তার খেলা, তেমনি কিউবার জন্যও ভাগ্যের দরজা খুলে যায় এক চোটের মাধ্যমে। দলে থাকা ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম ও ডিফেন্ডার রহমত মিয়া ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়লে সুযোগ এসে যায় কিউবা মিচেলের সামনে। তার সঙ্গে আরও একজন নতুন মুখ, ফর্টিসের ডিফেন্ডার মোরশেদ আলীকেও দলে ডাকা হয়।

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রবাসী খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। বিদেশে বেড়ে ওঠা, কিন্তু বাংলাদেশের বংশধর এমন খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয় কয়েক বছর আগে। কিউবা মিচেলের বিষয়টি আলোচনায় আসে গত বছরের শেষ দিকে, যখন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তার নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া শুরু করে। ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই তরুণের বাবা-মা বাংলাদেশের, ফলে নাগরিকত্ব পাওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে তার পাসপোর্ট ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এরপর থেকেই অপেক্ষা—কবে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে তুলবেন কিউবা। বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, এবার হয়তো জাতীয় দলের দ্বার খুলে যাবে তার জন্য। কিন্তু ক্লাবে বেশি সময় খেলার সুযোগ না পাওয়ায় কোচ কাবরেরা শুরুতে তাকে বিবেচনায় আনেননি। তবুও কিউবা থেমে থাকেননি। অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রম আর মানসিক দৃঢ়তায় নিজেকে প্রমাণ করে গেছেন তিনি।

তার ফুটবল যাত্রা শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডের সান্ডারল্যান্ড ক্লাবের একাডেমিতে। সেখানে খেলতে খেলতেই ফুটবলের বুনিয়াদি শিক্ষা পান তিনি। পরে স্থানীয় কিছু ক্লাবে খেলে নিজেকে গড়ে তোলেন এক পরিণত ফরোয়ার্ডে। মাঠে তার গতি, বল নিয়ন্ত্রণ ও পজিশনিং দক্ষতা প্রশংসিত হয়েছে কোচদের কাছে। ঠিক এই কারণেই তাকে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন এক শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া মানেই শেষ নয়, বরং শুরু নতুন এক লড়াইয়ের। প্রাথমিক স্কোয়াডে নাম থাকলেও মূল দলে জায়গা পাওয়ার জন্য কিউবাকে এখন নিজেকে প্রমাণ করতে হবে অনুশীলনে। কোচ হাভিয়ের কাবরেরা ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, দলে সুযোগ পেতে হলে সবাইকে সমানভাবে পরিশ্রম করতে হবে। তাই কিউবার জন্য চ্যালেঞ্জ এখন নিজেকে প্রস্তুত করা আন্তর্জাতিক মানে।

বাংলাদেশের ফুটবলে প্রবাসী খেলোয়াড়দের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা মত উঠে এসেছে। কেউ কেউ মনে করেন, তাদের সংযুক্তি দলের মান বাড়াবে, আবার অনেকে মনে করেন, স্থানীয় খেলোয়াড়দের সুযোগ কমে যাবে। তবে কিউবার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইতিবাচক সাড়া দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই লিখছেন, “বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন যুগের শুরু হোক কিউবার পায়ে।”

ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা হওয়ায় কিউবা ইংরেজি ভাষাতেই বেশি স্বচ্ছন্দ। তবে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারাটা তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই জানতাম আমার শিকড় বাংলাদেশে। এখন সেই দেশের হয়ে মাঠে নামতে পারা গর্বের বিষয়।”

বাংলাদেশ ফুটবলের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় কিউবার মতো নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের আগমন আশার প্রতীক। দলের আক্রমণভাগে গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকতা না থাকায় কোচ নতুন মুখ খুঁজছিলেন। তাই কিউবার অন্তর্ভুক্তি শুধুই প্রতীকী নয়, বরং ট্যাকটিক্যাল ভাবেও তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বাংলাদেশ ফুটবলের অনেক সমর্থকই চান, যেন এই তরুণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হয়। তবে সময়ই বলে দেবে, কিউবা মিচেল সত্যিই সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারবেন কি না।

এখন কিউবার সামনে যে কাজটি সবচেয়ে বড়—তা হলো নিজের ফিটনেস বজায় রাখা, কোচের পরিকল্পনায় জায়গা করে নেওয়া এবং মাঠে প্রমাণ করা যে তিনি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য আসলেই এক মূল্যবান সম্পদ।

তবুও একটা বিষয় স্পষ্ট—কিউবার অন্তর্ভুক্তি শুধু একটি খেলোয়াড়ের নয়, বরং পুরো দেশের ফুটবলে নতুন এক আশাবাদের প্রতীক। সেই আশা এখন ফুটে উঠছে সমর্থকদের কণ্ঠে, পোস্টে, আর স্টেডিয়ামের চিয়ারিং সাউন্ডে। হয়তো খুব শিগগিরই বাংলাদেশের জার্সি গায়ে কিউবা মিচেলকে দেখা যাবে মাঠে দৌড়াতে, আর সেদিন হয়তো লাখো হৃদয়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে লাল-সবুজের রঙে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত