বাংলাদেশ ছাড়ছে কেপিএমজি, বড় পরিবর্তন অডিট খাতে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ১ বার
বাংলাদেশ ছাড়ছে কেপিএমজি, বড় পরিবর্তন অডিট খাতে

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের কার্যক্রম শেষে বাংলাদেশ থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ চারটি অডিট ও পরামর্শ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অন্যতম কেপিএমজি। বৈশ্বিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ছাড়ার পাশাপাশি মিশর ও পাকিস্তান থেকেও নিজেদের কার্যক্রম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

কেপিএমজি বাংলাদেশে এতদিন স্থানীয় অংশীদার প্রতিষ্ঠান রহমান রহমান হকসের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এই কাঠামো ছিল একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা, যেখানে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের অধীনে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সেবা প্রদান করত। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কেপিএমজি গ্লোবাল বোর্ড ইতোমধ্যে এই পৃথকীকরণ বা ডিকাপলিং প্রক্রিয়া অনুমোদন করেছে এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে অডিট ও পরামর্শ খাতে “বিগ ফোর” নামে পরিচিত চারটি প্রতিষ্ঠান হলো ডেলয়েট, প্রাইসওয়াটারহাউসকুপার্স, আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়াং এবং কেপিএমজি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিশাল বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, উচ্চ রাজস্ব এবং বহুজাতিক কোম্পানির অডিট কার্যক্রমে আধিপত্যের কারণে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বিশ্বের শীর্ষ করপোরেশনগুলোর বড় একটি অংশের আর্থিক নিরীক্ষা ও পরামর্শ সেবা এই চারটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশে কেপিএমজির দীর্ঘ উপস্থিতি দেশের করপোরেট খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে। বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অডিট কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটির অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। ফলে তাদের প্রস্থানকে দেশের পেশাদার সেবা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেপিএমজির এই সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার নির্দিষ্ট কিছু বাজারে তাদের বৈশ্বিক কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের অংশ। একইসঙ্গে তারা তাদের কার্যক্রম আরও বড় এবং লাভজনক বাজারে কেন্দ্রীভূত করতে চাইছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কেপিএমজির প্রস্থানের পর বাংলাদেশে ডেলয়েট এবং আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়াং তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকবে। ডেলয়েটের স্থানীয় অংশীদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে নুরুল ফারুক হাসান অ্যান্ড কোং, অন্যদিকে আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়াংয়ের প্রতিনিধিত্ব করছে ইসলাম হক হানিফ অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সাল থেকে ইওয়াইয়ের স্থানীয় অংশীদার হিসেবে কাজ করছে এবং দেশের আর্থিক রিপোর্টিং কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত রয়েছে।

বর্তমানে বিগ ফোরের অন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থানীয় ও আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতীয় আঞ্চলিক কাঠামোর অধীনে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে তাদের উপস্থিতি বজায় রাখছে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, কেপিএমজির প্রস্থান দেশের অডিট ও পরামর্শ খাতে কিছুটা শূন্যতা তৈরি করতে পারে, তবে একই সঙ্গে স্থানীয় পেশাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে। বড় আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টরা বিকল্প হিসেবে অন্য বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকতে পারে, ফলে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে।

করপোরেট খাতের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিগ ফোরের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কেপিএমজির চলে যাওয়া বিনিয়োগ পরিবেশে সরাসরি প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে বাজার পর্যবেক্ষকরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

বাংলাদেশে পেশাদার অডিট ও অ্যাকাউন্টিং সেবার বাজার গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়েছে। ব্যাংকিং খাত, টেলিকম, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এবং বড় শিল্প গ্রুপগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদা এই খাতকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি বড় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের প্রস্থান নিঃসন্দেহে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে কেপিএমজির এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও কিছু দেশে একই ধরনের পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় অংশীদারদের সক্ষমতা এই শূন্যতা অনেকাংশে পূরণ করবে বলেও তারা মনে করছেন।

সব মিলিয়ে কেপিএমজির প্রস্থান দেশের করপোরেট সেবা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই পরিবর্তন বাংলাদেশের অডিট ও পরামর্শ খাতকে কোন দিকে নিয়ে যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত