প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা ব্রাজিলিয়ান তারকা Neymar–কে আসন্ন বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রায় আড়াই বছর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামতে না পারলেও ফিটনেস টেস্টে পাশ করায় কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে দলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ফুটবল মহলে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়।
ব্রাজিলের সাবেক আন্তর্জাতিক গোলরক্ষক ওয়াগনার ফার্নান্দো ভেলোসো সরাসরি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেইমারকে বিশ্বকাপ দলে রাখা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। তার মতে, ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের দিক থেকে যেসব খেলোয়াড় ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছেন, তাদের উপেক্ষা করে একজন অনিয়মিত খেলোয়াড়কে দলে রাখা দলের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
ভেলোসো তার মন্তব্যে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন চেলসির তরুণ ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোকে, যিনি চলতি মৌসুমে দারুণ ফর্মে রয়েছেন। তিনি বলেন, পেদ্রো বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় থাকা সত্ত্বেও তাকে বাদ দিয়ে নেইমারকে দলে নেওয়া সত্যিই বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত।
তার ভাষায়, মাঠের বাস্তব পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দল নির্বাচন হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত নাম বা অতীত কৃতিত্বের ওপর নয়। তিনি আরও বলেন, নেইমার দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ম্যাচ খেলতে পারেননি এবং বড় ম্যাচে তার উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
ভেলোসো অভিযোগ করেন, নেইমার সাম্প্রতিক সময়ে বড় ক্লাব ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এড়িয়ে চলেছেন এবং তুলনামূলকভাবে সহজ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলায় বেশি অংশ নিয়েছেন। তার মতে, এটি কোনোভাবেই বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতির মানদণ্ড হতে পারে না।
ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশও মনে করছেন, নেইমারের অভিজ্ঞতা ব্রাজিল দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় যেখানে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন, সেখানে ফিটনেস সমস্যায় থাকা খেলোয়াড়কে দলে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অন্যদিকে সমর্থকদের একাংশ মনে করেন, নেইমার এখনও এমন একজন খেলোয়াড় যিনি একক দক্ষতায় ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারেন। তার অভিজ্ঞতা ও টেকনিক্যাল স্কিল ব্রাজিল দলের জন্য বড় সম্পদ হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে এই দুই মতের দ্বন্দ্বেই তৈরি হয়েছে মূল বিতর্ক।
ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি অবশ্য এখনো তার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। তার মতে, নেইমারের ফিটনেস ধীরে ধীরে উন্নতি করছে এবং টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তিনি সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়া যথেষ্ট নয়, বরং ধারাবাহিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা এবং শারীরিক চাপ সামলানোর সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গাতেই নেইমারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল দলের স্কোয়াড নিয়ে এমন বিতর্ক দলীয় প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ও ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের বাদ পড়া নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
সব মিলিয়ে নেইমারকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং পুরো ব্রাজিল দলের কৌশল ও নির্বাচনী নীতির ওপরও প্রশ্ন তুলছে। বিশ্বকাপের আগে এই ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।