উখিয়া সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে যুবক আহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ১ বার
মিয়ানমার সীমান্তে ফের মাইন বিস্ফোরণ

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় মো. সালমান (২৭) নামের ওই যুবকের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানিয়েছে সীমান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তের বালুখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাটাপাহাড় পোস্ট সংলগ্ন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২৫০ গজ ভেতরে স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ওই রোহিঙ্গা যুবক গুরুতরভাবে আহত হন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিস্ফোরণের পরপরই আশপাশের লোকজন আহত সালমানকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালংয়ে অবস্থিত একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসকরা তার অবস্থার অবনতি দেখে তাকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন।

আহত সালমান উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরের একটি ব্লকের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একজন সদস্য। কী কারণে তিনি সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী বিজিবি জানিয়েছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সময়ে স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এসব দুর্ঘটনা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

এর আগে গত রোববার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তেও একই ধরনের স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তিনজন পাহাড়ি বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারান। তারা কাঠ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় বিস্ফোরণের শিকার হন বলে জানিয়েছিল বিজিবি।

সীমান্ত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে উখিয়া, টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও অঙ্গহানির ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে শুধু এই তিনটি সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে অন্তত ৪০ জন মানুষ গুরুতর আহত হয়ে পা হারিয়েছেন বা স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন। এছাড়া প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত চারজন। এসব ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা এখন নিয়মিত আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় দরিদ্র মানুষ জীবিকার তাগিদে সীমান্ত অতিক্রম করতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন বা চিরতরে অক্ষম হয়ে পড়ছেন। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে সীমান্ত অতিক্রম না করার জন্য বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। বিশেষ করে শূন্যরেখা এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছে বাহিনীটি।

সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই ধরনের দুর্ঘটনা আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকেই জানিয়েছেন, সীমান্তের ওপারে জমি ও বনাঞ্চলে পুঁতে রাখা মাইন তাদের জীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন অপসারণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে এই ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তারা দ্রুত কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিত করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে উখিয়ার এই সাম্প্রতিক মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা আবারও সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে। আহত সালমানের চিকিৎসা চলছে, তবে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনো শঙ্কা রয়েছে বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত