প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং সার্বিক অগ্রগতির পথকে আরও সুগম করতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই বলে অত্যন্ত জোরালোভাবে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। বিদেশি বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা ও সুযোগগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই ধরনের বিনিয়োগ অত্যন্ত দূরদর্শী ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ঐতিহাসিক বেলচূড়া এলাকায় অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। দেশের শিল্প খাতের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বেজা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক তথ্য প্রকাশ করে জানান যে, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বর্তমানে নির্মীয়মাণ চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে (সিইআইজেড) আগামী মাত্র ১৮ মাসের মধ্যেই প্রথম কারখানার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই উচ্চাভিলাসী ও সময়োপযোগী লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যেমন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তেমনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানও সুনির্দিষ্ট ও জোরালো প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে।
বেজা চেয়ারম্যান আরো উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী এই প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু করতে দীর্ঘ তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকারের গতিশীল নেতৃত্ব, নীতিগত সহায়তা এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার দৃঢ় মানসিকতার কারণে সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে কমিয়ে এনে মাত্র দেড় বছরের মধ্যে প্রথম কারখানার উৎপাদন শুরুর এই অভূতপূর্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চীনা বিনিয়োগকারীদের দেশের অত্যন্ত সম্মানিত অতিথি হিসেবে অভিহিত করে আশিক চৌধুরী বলেন যে, তারা যখন বাংলাদেশে পুঁজি বিনিয়োগ করবেন, তখন তারা যেমন নিজেদের ব্যবসা ও বাণিজ্যের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ ঘটাতে পারবেন, ঠিক তেমনি এর মাধ্যমে দেশের হাজার হাজার বেকার যুবকের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ এবং বেকারত্ব হ্রাসে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ বাসিন্দাদের প্রতি চীনা বিনিয়োগকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও আন্তরিক আতিথেয়তা প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের জটিলতা বা প্রতিবন্ধকতা নিরসনের আশ্বস্ত করে বেজা চেয়ারম্যান স্পষ্টভাবে জানান যে, কাজের ধারা অব্যাহত রাখতে গিয়ে যদি কখনো কোনো ধরনের ছোট বা বড় সমস্যা দেখা দেয়, তবে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ মিলে সম্মিলিতভাবে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তা সমাধান করবে। দেশের স্বার্থকে সর্বদা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবং বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটির কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ও অঙ্গীকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।