ট্রাম্প ঘোষণা: প্রতিটি মার্কিন নাগরিক পাবেন ২ হাজার ডলার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৭ বার
ট্রাম্প বাণিজ্য তদন্তে বাংলাদেশের নাম

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দেশের প্রতিটি নাগরিককে ২ হাজার ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই অর্থ সরবরাহ করা হবে বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক থেকে সরকারের অর্জিত রাজস্ব থেকে। ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই বছর শুল্ক থেকে আসা বিলিয়ন ডলার রাজস্বকে ব্যবহার করে নাগরিকদের ‘ডিভিডেন্ড’ বা ‘লভ্যাংশ’ হিসেবে প্রদান করা হবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রোববার স্থানীয় সময় ট্রাম্প এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা ট্রিলিয়ন ডলার আয় করছি এবং শিগগিরই ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল ঋণ পরিশোধ শুরু করব। যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড বিনিয়োগ হচ্ছে, নতুন কারখানা গড়ে উঠছে সর্বত্র। তাই প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অন্তত ২ হাজার ডলারের একটি ডিভিডেন্ড প্রদান করা হবে।” ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, উচ্চ আয়ের মানুষদের এই অর্থের আওতায় রাখা হবে না।

ট্রাম্পের এই প্রস্তাব এসেছে এমন এক সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি দ্রুত পুনরুদ্ধার ও সম্প্রসারণের পথে রয়েছে। শুল্ক থেকে আসা রাজস্ব ব্যবহার করে নাগরিকদের অর্থ সরাসরি দেওয়া হবে, যা দেশের ভোক্তা ব্যয় ও অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগে মধ্য ও নিম্ন আয়ের পরিবারের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক ক্রয় ক্ষমতা বাড়তে পারে।

ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে আরও বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্প স্থাপন এই ডিভিডেন্ড প্রদানের পেছনের মূল উদ্দেশ্য। সরকার শুল্ক থেকে উপার্জিত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই ধরনের নীতিমালা গ্রহণ করছে।

এই ঘোষণার পর মার্কিন অর্থনীতিবিদরা বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। একাংশ মনে করছেন, জনগণকে সরাসরি অর্থ প্রদান করার ফলে অর্থনৈতিক চাকা আরও সক্রিয় হবে, যখন অন্যরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে বৃহৎ পরিমাণ অর্থের সরাসরি বিতরণ মহামূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে। তবে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের বাদ দেওয়ার মাধ্যমে এই প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব হবে।

ট্রাম্পের এই নীতিমালা কার্যকর হলে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিক এই বছরের শেষের দিকে দুই হাজার ডলার করে পাবেন। দেশব্যাপী ব্যাংক ও অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ বিতরণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে উদ্দীপনা জোগাতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্ক থেকে সরাসরি নাগরিকদের অর্থ প্রদান যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য একটি অপ্রচলিত, তবে কার্যকরী পদক্ষেপ হতে পারে। এটি ভোক্তা ব্যয় বাড়াতে, শিল্পে বিনিয়োগের জন্য প্রণোদনা তৈরি করতে এবং সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা মার্কিন জনগণ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিসরে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে অর্থনৈতিক উদ্দীপনা হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছেন, কেউ আবার এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তবে নিশ্চিত যে, এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে একটি নতুন দিক উন্মোচন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত