তদন্ত রিপোর্ট হাতে আসার অপেক্ষায় বিসিবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
তদন্ত রিপোর্ট হাতে আসার অপেক্ষায় বিসিবি

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নারী ক্রিকেটার জাহানারা আলমের বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। রোববার থেকে কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে। বিসিবি নেতৃত্ব জানিয়েছে, যে কোনো ধরনের হেনস্তার বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থান নেবে এবং অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম রোববার রাতে একটি পাঁচতারকা হোটেলে সাংবাদিকদের জানান, ‘বিসিবিতে প্রবেশের পর থেকেই এই বিভাগটি আমার কাছে সবচেয়ে অবহেলিত মনে হয়েছে। আমরা সঠিক রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। তদন্ত কমিটি স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে আছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তারিক উল হাকিম। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিসিবির একমাত্র নারী পরিচালক রুবাবা দৌলা এবং সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা, যিনি বাংলাদেশ উইমেন’স স্পোর্টস ফেডারেশনেরও সভাপতি। কমিটি গঠন করা হয়েছে যাতে অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং পেশাদার অনুসন্ধান নিশ্চিত করা যায়।

বিসিবি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, ‘সম্প্রতি একটি ভিডিও দেখে আমাদের মন ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। আমরা জানি, এ ধরনের ঘটনা ক্রীড়াঙ্গনে একটি বড় সমস্যা। সঠিক তদন্ত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তবে কমিটি যে স্বাধীনভাবে কাজ করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা তাদের ১৫ কর্মদিবস সময় দিয়েছি যাতে তারা তদন্ত সম্পন্ন করতে পারে।’

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘এখন থেকে পরিস্থিতি আলাদা। তদন্ত কমিটি পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করবে এবং রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বোর্ড। আমরা চাই নারীদের জন্য সব ধরনের খেলা নিরাপদ হোক এবং খেলার পরিবেশ শুদ্ধ হোক। প্রয়োজনে জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ সাহায্য করার চেষ্টা করা হবে।’

তদন্ত কমিটির কার্যক্রমে বিশেষজ্ঞ যুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করছে, শুধুমাত্র তিন সদস্যের কমিটি যথেষ্ট নয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যৌন হয়রানি বা নিপীড়নের অভিযোগে সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে কমিটিতে অন্তত দুজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞকে যুক্ত করা উচিত। এর আগে এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, বরং তা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এর ফলে নারীর অংশগ্রহণ ও নারী ক্রিকেটের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে ক্রীড়াঙ্গনে পুরুষতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক আধিপত্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। নারীদের খেলায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে এবং যেকোনো প্রতিবাদ বা অভিযোগের প্রতিক্রিয়া দমন করা হতে পারে। তাই বিসিবির জন্য সঠিক ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি।

বিসিবি নিশ্চিত করেছে, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কমিটির রিপোর্ট হাতে আসার পরই বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এতে নিশ্চিত হবে, যে কোনো ধরনের হয়রানি বা নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে নারী খেলোয়াড়রা নিরাপদ পরিবেশে খেলতে পারবে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনা নারী ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। বিষয়টি শুধু এক খেলোয়াড়ের নিরাপত্তার নয়, বরং পুরো নারীদের ক্রীড়াঙ্গনের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং সুযোগ-সমতা রক্ষার বিষয়। কমিটির রিপোর্ট এবং তদনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত