পারিবারিক বিবাদের জেরে ছেলের হাতে বাবা নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৬ বার
পারিবারিক বিবাদের জেরে ছেলের হাতে বাবা নিহত

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মাদারীপুরের শিবচরে পারিবারিক কলহের জেরে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চগ্রাম এলাকায় ফারুক মিয়া (২৭) নামের এক যুবক তার বাবা মতি মিয়া (৬৫)-কে কোদালের কোপে হত্যা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের পরে ফারুককে পুলিশ আটক করেছে।

নিহত মতি মিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলারহাট থানার বড়হাটি গ্রামের বাসিন্দা। জানা যায়, তিনি কাজের সন্ধানে কয়েকদিন আগে মাদারীপুরের শিবচরে এসেছিলেন এবং সেখানে তার পরিবারসহ অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল মানসিক উত্তেজনা ও কলহ, যা রোববার রাতের নৃশংস ঘটনার কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেল থেকেই ফারুক ও তার বাবার মধ্যে পারিবারিক বিষয়ে তর্ক ও দ্বন্দ্ব চলছিল। রাতের বেলা, যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, তখন ফারুক ঘুমন্ত অবস্থায় বাবাকে কোদাল দিয়ে উপর্যুপরি কোপ দিতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই মতি মিয়ার মৃত্যু ঘটে।

খবর পেয়ে ভোরে শিবচর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং ফারুককে আটক করে। শিবচর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতিও চলছে।”

স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি গভীর শোকও দেখা গেছে। পারিবারিক কলহের এই হত্যাকাণ্ড এলাকার মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে যে, গৃহস্থালির বিবাদের উত্তেজনা কখনও কখনও কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধন ভেঙে যখন মানসিক চাপ ও অভিমান একত্রিত হয়, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যা প্রায়শই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দূর্ভাগ্যজনক ফলাফল বয়ে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ফারুক তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও আর্থিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া করছিল। রোববার রাতের নৃশংস ঘটনায় পুরো এলাকার মানুষ চরমভাবে উদ্বিগ্ন। পুলিশ সতর্ক করেছেন যে, পারিবারিক কলহ কখনও কখনও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে, তাই সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানসিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।

এ ধরনের ঘটনায় পরিবারিক ও সামাজিক সহায়তা কেন্দ্রগুলোর ভূমিকার গুরুত্ব নতুনভাবে সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পারিবারিক বিরোধ, মানসিক চাপ ও অভিমান ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করা না হলে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। পরিবার ও সমাজের মানুষদের উচিত, বিরোধের ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।

ফারুক মিয়াকে শিবচর থানা পুলিশ আটক করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি পরিকল্পিত হত্যা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর এবং আদালতের প্রক্রিয়া শুরু হলে মামলার বিস্তারিত তথ্য আরও প্রকাশিত হবে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও সতর্ক হয়ে উঠেছে, যাতে অনুরূপ নৃশংস ঘটনা আর না ঘটে। পরিবারের অভিমানের জেরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড সমাজে গভীর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যে, পারিবারিক কলহ ও মানসিক উত্তেজনা কখনও কখনও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত