প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
হবিগঞ্জে রাজধানী ঢাকার ‘লকডাউন’ কর্মসূচির সমর্থনে সোমবার মধ্যরাতে একটি মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা মশাল হাতে নিয়ে শহরের বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, মিছিলকারীরা শেখ হাসিনা এবং দেশ থেকে পালিয়ে লন্ডনে অবস্থানরত সাবেক এমপি আবু জাহিরের নামে স্লোগান দিতে থাকেন। যদিও মিছিলের সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে ধারণা করা হচ্ছে এটি লাখাই-হবিগঞ্জ সড়ক বা বানিয়াচং-হবিগঞ্জ সড়ক এলাকায় হতে পারে।
ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিছিলের ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে এটিকে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এই ধরনের অন্ধকারে অনুষ্ঠিত মিছিল রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তারা ইতোমধ্যেই দেখেছেন এবং জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “নাশকতা ও অশান্তি রোধে পুলিশ সপ্তাহজুড়ে তৎপর। গতকাল থেকে এই সম্পর্কিত বিভিন্ন মামলায় অন্তত ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই পূর্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন বা নাশকতাসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মশাল মিছিলের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকায় বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কারণে বড় কোনো অশান্তি এড়ানো গেছে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মিছিলের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে আরও জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা পরিচয় প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, “আমাদের মিছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সুশৃঙ্খল ছিল। এটি ঢাকার ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল।” তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং স্বতন্ত্র রিপোর্টে কিছু উসকানিমূলক আচরণের প্রতিফলন পাওয়া গেছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের নজরদারির কারণে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানী ঢাকার ‘লকডাউন’ কর্মসূচির সমর্থনে প্রান্তিক অঞ্চলে মিছিল করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই ধরনের কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে এটি আরও তীব্র প্রতিক্রিয়া ডেকে আনছে।
নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পেতে পারে এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। জেলা পুলিশ এই ধরনের মিছিল বা উসকানিমূলক কার্যক্রম মনিটর করছে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, “আমরা চাই জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের জীবনযাপন করুক। কোনো প্রকার রাজনৈতিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড আমরা সহ্য করব না।”
হবিগঞ্জ জেলার মানুষ এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে এবং অনলাইন তথ্য ও ভিডিও যাচাই করার জন্য সচেতন হতে বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, রাজধানী ঢাকার ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ও প্রান্তিক এলাকায় সংগঠিত মিছিলগুলোর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে, ভোট ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে এই ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জনসচেতনতার মধ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় জনগণ জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে এমন মিছিল তাদের নিরাপত্তার অনুভূতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতার কারণে কোনো ধরনের বৃহৎ ঘটনার সূত্রপাত হয়নি।
সমষ্টিগতভাবে বলা যায়, হবিগঞ্জে মধ্যরাতে অনুষ্ঠিত এই মশাল মিছিল রাজনৈতিক উত্তেজনা, সামাজিক প্রতিক্রিয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়াসের সমন্বয়ে গঠিত একটি ঘটনা। এটি ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতি রোধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও স্থানীয় জনগণের সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।