প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সবশেষ মূল্য সমন্বয়ের পর দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম আরও এক দফা বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে বাজারে এই মূল্যবান ধাতু দুটি এখন সবশেষ নির্ধারিত রেকর্ড উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ রোববার ৩১ মে দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতু দুটি সবশেষ নির্ধারিত চড়া দামেই কেনাবেচা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পাকা স্বর্ণ এবং রুপার দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন মূল্য তালিকা নির্ধারণ করেছে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের কেন্দ্রীয় এই সংগঠনটি।
গত ২৫ মে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন এই মূল্য তালিকা সারা দেশে কার্যকর করা হয়েছে। বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার দেশের বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। স্বর্ণের সমান্তরালে দেশের বাজারে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে ভরিতে ১১৭ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, বিশ্ববাজার ও স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেই এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই দাম বাজারে বহাল থাকবে।
নতুন এই মূল্য তালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে আজ রোববার প্রতি ভরি অর্থাৎ ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেটের মানসম্পন্ন স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা। ভালো মানের পাশাপাশি ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকায়। আর ঐতিহ্যবাহী সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের খরচ পড়ছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা। স্বর্ণের এই আকাশচুম্বী দামের কারণে বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
এর আগে, সবশেষ গত ২৩ মে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমিয়ে সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সংগতি রেখে ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে আবারও আগের কমানো দামটুকুই হুবহু বাড়িয়ে দেয় বাজুস, যা ক্রেতাদের ওপর নতুন করে বাড়তি খরচের চাপ তৈরি করেছে।
স্বর্ণের লাগামহীন দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে রুপার দামেও বড় ধরনের উম্ফন দেখা গেছে। বাজুসের সবশেষ তালিকা অনুযায়ী, বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৫৫৮ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। রুপার দাম এক লাফে এতটা বৃদ্ধি পাওয়া গয়না তৈরি করতে আসা মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
তবে অলংকার বা গয়না কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের একটি বিষয় বিশেষভাবে মাথায় রাখতে হবে। বাজুস স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তাদের নির্ধারিত এই মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস কর্তৃক অনুমোদিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ গয়না তৈরির মজুরি বাধ্যতামূলকভাবে যোগ হবে। অর্থাৎ, ভ্যাট ও ন্যূনতম মজুরিসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি গয়না কিনতে ক্রেতার প্রকৃত খরচ আরও বেশ কিছুটা বেড়ে যাবে। তদুপরি, গয়নার ডিজাইন বা নকশা এবং মানের ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে এই মজুরির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।