বাংলাদেশ-মার্কিন বাণিজ্যে নতুন অধ্যায়,শুল্ক চুক্তির দ্বিতীয় দফার আলোচনা আজ থেকে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৬৪ বার
বাংলাদেশ-মার্কিন বাণিজ্যে নতুন অধ্যায়,শুল্ক চুক্তির দ্বিতীয় দফার আলোচনা আজ থেকে

প্রকাশ: ৯ জুলাই, ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক শুল্ক চুক্তির দ্বিতীয় দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনা আজ থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে শুরু হচ্ছে। চলতি মাসের ৭ তারিখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৪টি দেশের নেতাদের কাছে শুল্ক পুনর্বিন্যাস ও বাণিজ্যচুক্তি সংক্রান্ত যে চিঠি প্রেরণ করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় আলোচনার নতুন ধাপের সূচনা করতে যাওয়া প্রথম দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হিসেবে এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। বাণিজ্য সচিব এবং একজন অতিরিক্ত সচিবসহ একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করছেন। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ঢাকায় থেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে আলোচনায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ২৭ জুন অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনায় দু’দেশের মধ্যে শুল্ক কাঠামো হালনাগাদ, পণ্য রপ্তানি-আমদানি শর্তাবলী সহজীকরণ এবং নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ প্রসারে যেসব অগ্রগতি হয়েছিল, এবার সেই অগ্রগতি আরও সুসংহত ও চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বৈঠকটি আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের শুল্ক রেয়াত, তৈরি পোশাক ও হস্তশিল্পের নতুন বাজার সৃষ্টিসহ বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূল সিদ্ধান্ত প্রাপ্তির ওপর।

সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশাধিকারে দীর্ঘদিন ধরে যে শুল্ক-জটিলতা বিরাজ করছে, তা কাটিয়ে উঠতে এই আলোচনাগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, বৈশ্বিক বাণিজ্য-রাজনীতির চলমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ দ্রুতই নিজস্ব অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চায়, আর সে লক্ষ্যেই শুল্ক চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকগুলো ৯ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, দুই দেশের প্রতিনিধিরা এই তিন দিনে প্রাথমিক খসড়া চুক্তির বেশির ভাগ দিকেই একমত হতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে এটি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত করা যাবে।

বাংলাদেশের বাণিজ্য খাতের সঙ্গে যুক্ত বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়, তবে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়াবে না, একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতির গতিকে আরও বেগবান করবে। বাণিজ্যিক সমঝোতার এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও নতুন মাত্রা পাবে—এমন প্রত্যাশাই এখন দেশের ব্যবসায়ী মহলের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত