১৮ সীমান্ত পয়েন্টে প্রবেশ করছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ বার
১৮ সীমান্ত পয়েন্টে প্রবেশ করছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে ক্রমশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী চক্র। ঢাকার মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড এবং চট্টগ্রামে নির্বাচনি প্রচারের সময় গুলির ঘটনায় এই অপরাধচক্রের উত্থান স্পষ্ট। তাদের হাতে রয়েছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, যা নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে জানা গেছে, এসব অস্ত্র অন্তত ১৮টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। টেকনাফ, বেনাপোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর এবং মেহেরপুরসহ অন্যান্য সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে অস্ত্র চোরাচালান করা হচ্ছে। নদীপথ, ট্রানজিট রুট, নাফ নদীর অগভীর পয়েন্ট এবং ছোট দ্বীপাঞ্চলগুলোও গোপনে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন থানায় লুট হওয়া পাঁচ হাজার ৭৬৩টি অস্ত্রের মধ্যে এক হাজার ৩৪০টি এখনো নিখোঁজ। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, এই অস্ত্রগুলো মূলত রাজধানীর বড় গ্যাংগুলোর হাতে পৌঁছেছে, যা নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। র‍্যাব গত চার মাসে ১৮৯টি এবং বিজিবি ৯ মাসে এক হাজার ২২৫টি অস্ত্র উদ্ধার করলেও, নিখোঁজ অস্ত্র শনাক্তকরণে এখনও যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি।

গোয়েন্দারা বলছেন, দেশের ৭৫টির বেশি গ্যাং-এর হাতে স্বয়ংক্রিয় বিদেশি অস্ত্র রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ডিএমপি, র‍্যাব এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী এসব গ্যাং দমনে কাজ করছে। তারা সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধারে সক্ষম হলেও, রাজনৈতিক সহায়তা ও জটিল নেটওয়ার্কের কারণে তাদের কার্যক্রম কিছু ক্ষেত্রে সীমিত হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে অপরাধী চক্র সক্রিয় থাকার বিষয়ে পুলিশ সম্পূর্ণ সতর্ক। কোনো চক্র যদি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে সহিংসতা, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব বা অস্ত্র ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তাহলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীসহ সারা দেশে টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করেছে এবং বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি ও সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গ্যাং-অস্ত্র-অর্থের জটিল নেটওয়ার্ক মোকাবিলা করতে গোয়েন্দা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। হুন্ডি নেটওয়ার্ক, অনলাইন আর্থিক লেনদেন এবং রেমিট্যান্স চ্যানেলগুলো পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। এছাড়া, দ্রুত বিচার এবং শাস্তি কার্যকর না হলে, গ্যাং-এর সদস্যরা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে।

নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার তৎপরতা, সীমান্তে নজরদারি ও গ্যাং দমন প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিটি ধাপে সক্রিয় রয়েছে এবং তারা নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত