সর্বশেষ :
সংগ্রাম, সাহস ও সাফল্যের সাতকাহন: বাংলাদেশের কর্মজীবী নারীর অনুপ্রেরণার গল্প অস্ট্রেলিয়াকে বিব্রতকর ইতিহাস উপহার দিল বাংলাদেশ বাজেটে এবারও থাকছে কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ জনগণের কল্যাণে সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বান এমরান সালেহ প্রিন্সের নোয়াখালীতে মাদকের প্রতিবাদে স্কুলছাত্র খুন, এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক তিস্তার পানি বাড়ছে, লালমনিরহাটে বন্যার শঙ্কা মাস্কের প্রতিষ্ঠানে শেয়ার বোনাস, ৪ হাজার ৪০০ কর্মী হচ্ছেন মিলিয়নেয়ার বিশ্বজুড়ে প্রতি ৭০ জনে ১ জন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত: ইউএনএইচসিআর এনসিটি ইস্যুতে নীরব আন্দোলনকারীরা, প্রশ্ন বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্তিত্ব রক্ষায় কংগ্রেসের শরণাপন্ন মমতা, বদলাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ

বিশ্বজুড়ে প্রতি ৭০ জনে ১ জন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত: ইউএনএইচসিআর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ৪ বার
বিশ্বে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বব্যাপী সংঘাত, যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবিক বিপর্যয়ের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা UNHCR-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে প্রতি ৭০ জন মানুষের মধ্যে অন্তত একজন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। সংস্থাটির মতে, এটি বৈশ্বিক মানবিক সংকটের গভীরতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলমান যুদ্ধ, আঞ্চলিক সংঘাত, রাজনৈতিক নিপীড়ন, জাতিগত সহিংসতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মিলিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি, সম্পদ এবং জীবিকার উৎস হারিয়ে নিরাপত্তার সন্ধানে নিজ দেশ কিংবা অন্য দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ইউএনএইচসিআর বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় লাখ লাখ মানুষ এখনও স্থায়ী সমাধান থেকে বঞ্চিত। অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধ শেষ হলেও নিরাপত্তাহীনতা এবং অবকাঠামোগত ধ্বংসের কারণে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিরা নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।

সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ নিজেদের দেশের ভেতরেই স্থানান্তরিত হয়েছে। এদের অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক মানুষ আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে শরণার্থী হিসেবে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে শরণার্থী গ্রহণকারী দেশগুলোর ওপরও সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং অবকাঠামোগত চাপ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে শরণার্থী সংকট শুধু মানবিক সমস্যা নয়; এটি বৈশ্বিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসরত লাখো মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, চিকিৎসা এবং নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করাও দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি বড় অংশ নারী ও শিশু। অনেক শিশু বছরের পর বছর শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে বেড়ে উঠছে। নারী ও কিশোরীদের ক্ষেত্রে মানবপাচার, সহিংসতা এবং শোষণের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ফলে এই সংকটের মানবিক দিকটি আন্তর্জাতিক মহলের জন্য বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে কেবল যুদ্ধ বা রাজনৈতিক সংঘাতই দায়ী নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও ক্রমশ বড় ভূমিকা পালন করছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে অনেক মানুষ তাদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠছে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত পরিস্থিতিও বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা বাড়িয়ে তুলছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় নতুন নতুন মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে। অনেক অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে একাধিক প্রজন্ম বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বেড়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। শরণার্থী গ্রহণকারী দেশগুলোকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন এবং সামাজিক সেবার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। যদিও অনেক দেশ মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আশ্রয় প্রদান করছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদে এই চাপ মোকাবিলা করা সহজ নয়।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আরও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, কেবল জরুরি মানবিক সহায়তা যথেষ্ট নয়; সংঘাত নিরসন, টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ সৃষ্টি করাও জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।

মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা না পেলে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জীবনমান আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে অর্থসংকট দেখা দিয়েছে। ফলে লাখো মানুষ মৌলিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রতি ৭০ জনে একজন বাস্তুচ্যুত হওয়ার অর্থ হলো মানবিক সংকট আর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা দেশের সমস্যা নয়; এটি এখন একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা। তাই এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।

বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা নতুন করে মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদও দিয়েছে তারা।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত