বিজেপির পতন না দেখা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব: মমতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৩ বার
বিজেপির পতন না দেখা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব: মমতা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রধান মমতা ব্যানার্জি রাজনৈতিক সংকট ও দলীয় ভাঙনের মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বয়স নিয়ে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, মানুষের কর্মক্ষমতাই আসল বিষয়, বয়স নয়। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, বিজেপির পতন না দেখা পর্যন্ত তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় ৭১ বছর বয়সী মমতা ব্যানার্জি বলেন, তার বয়স নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি দাবি করেন, মানুষের মন, মানসিক শক্তি এবং কাজ করার সামর্থ্যই প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করে।

মমতা ব্যানার্জি বলেন, তিনি কখনো দেশের প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি। তাই অন্যদেরও বয়সকে রাজনৈতিক আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বিজেপির অনেক নেতাকর্মী তার রাজনৈতিক পরাজয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিপর্যয়ও কামনা করেছিলেন। তবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি বেঁচে থাকবেন এবং রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন যতদিন না বিজেপির পতন প্রত্যক্ষ করেন।

তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে বিভক্তি এবং নেতৃত্বের প্রশ্ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে দলটির একাংশ বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে বলে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

মমতা ব্যানার্জি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, যারা দল ছেড়ে যেতে চান তারা যেতে পারেন। তবে যারা সংকটের সময়ও দলের পাশে থাকবেন, তারাই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত শক্তি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতেও একাধিকবার কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও তিনি নতুন করে দলকে সংগঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি বলেন, ১৯৯৭ এবং ২০০৪ সালের মতো কঠিন সময় তিনি পার করেছেন। প্রয়োজন হলে ২০২৬ সালেও নতুন করে শুরু করার সাহস তার রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি আবারও দলকে শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মমতা আরও দাবি করেন, তিনি ইতোমধ্যে তিন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করেছেন। ভবিষ্যতেও নতুন নেতৃত্বকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি ছায়ার মতো পাশে থাকবেন। দলীয় নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টিএমসির অভ্যন্তরীণ সংকট বর্তমানে দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বে দলের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিধায়ক অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি লোকসভায় টিএমসির কয়েকজন সাংসদ অন্য একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান ভিন্ন হতে পারে।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সামনে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ‘২১ জুলাই শহীদ দিবস’। প্রতিবছরের মতো এবারও এই দিনটি ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক কর্মসূচি নেওয়া হলেও দলীয় বিভক্তির কারণে একই দিনে পৃথক সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কলকাতা হাইকোর্ট সম্প্রতি মমতা ব্যানার্জিপন্থী শিবিরকে নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে বীরলা প্ল্যানেটারিয়ামের কাছাকাছি এলাকায় সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে। ফলে একই দিনে কলকাতার অল্প দূরত্বের মধ্যে টিএমসির দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু দলীয় বিভক্তিকেই সামনে আনছে না, বরং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করতে পারে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা মমতা ব্যানার্জির জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বহুদিনের। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা ধরে রাখা এবং জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে উভয় দলই ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে মমতা ব্যানার্জির সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতার বক্তব্যে একদিকে যেমন তার রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ ঘটেছে, অন্যদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংকট মোকাবিলার বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে বয়স নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতাকেই সামনে এনেছেন।

ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে আগামী কয়েক মাসের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দলটির ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ অবস্থায় ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেটিই এখন রাজনৈতিক মহলের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত