পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা বেড়েছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৯ বার
পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা বেড়েছে,

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের সর্বউত্তরাঞ্চল হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। সকাল থেকে ভোর পর্যন্ত হিমেল হাওয়া ও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে পুরো জেলাজুড়ে শীতের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েকদিন ধরে ভোররাতের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা স্থানীয় মানুষদের দৈনন্দিন জীবনযাপনকে প্রভাবিত করছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি সপ্তাহের অন্যতম কম তাপমাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৭ শতাংশ। এর আগের দিন রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই পরিবর্তন শীতের অনুভূতিকে আরও প্রখর করে তুলেছে।

অন্যদিকে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিন ও রাতের মধ্যে এই বড় তাপমাত্রার তারতম্য স্থানীয়দের শরীর ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় শীতের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সকাল ও সন্ধ্যায় হালকা কুয়াশা থাকলেও দিনের বেলায় রোদ ঝলমল করছে। তবু প্রচণ্ড আর্দ্রতা এবং হিমেল বাতাসের কারণে শীতল আবহাওয়া বজায় রয়েছে।

জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ভোররাত থেকেই কনকনে ঠান্ডা হাওয়া বইতে শুরু করে। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় কয়েকদিন ধরে শীত প্রায় জেঁকে বসেছে। বিশেষ করে ভোর ও রাতে বাইরে বের হওয়া অনেকটাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। হাড়িভাসা এলাকার কৃষক আকবর আলী জানান, “গত কয়েকদিন ধরে ঠান্ডা অনেক বেড়ে গেছে। সকালে মাঠে যাওয়াই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শীতের কারণে কাজেও সমস্যা হচ্ছে।”

কামাত কাজল দিঘী এলাকার ভ্যান চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “সকাল হলেও ঘন কুয়াশা না থাকলেও তীব্র শীত মনে হয়। ভ্যান চালানোও কঠিন হয়ে গেছে, যাত্রীরাও কম। শীতে চলাচল প্রভাবিত হচ্ছে।”

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। ডিসেম্বরের শুরুতে শীত আরও জেঁকে বসবে। তাই জনসাধারণকে শীতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”

শীতের প্রকোপ শুধু সাধারণ মানুষকে নয়, স্থানীয় কৃষক ও যানবাহনচালকদের দৈনন্দিন কার্যক্রমকেও প্রভাবিত করছে। মাঠের কাজে শ্রমিকদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে, যানবাহনের পারাপারে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। জেলার স্কুল, কলেজ এবং অফিসেও সকাল-বিকেল সময়ে শীতের প্রভাবে উপস্থিতি কমে যায়।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা শীতজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে। স্থানীয় মানুষদের মধ্যে শীতের কারণে কাশি, ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি ও অন্যান্য শীতজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানুষদের উষ্ণ কাপড় ও সঠিক পরিচর্যা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে, হিমেল আবহাওয়ায় জেলার পর্যটকপ্রিয় স্থানগুলোতে ভ্রমণকারীর সংখ্যা কমে গেছে। তাপমাত্রার হ্রাস এবং কুয়াশার কারণে পর্যটকরা অনেক সময় ভ্রমণে যেতে দ্বিধা করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের প্রকোপে পর্যটন খাতেও সামান্য প্রভাব পড়েছে।

আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় আরও বলেন, “শীতের প্রভাব আগামী সপ্তাহে আরও বাড়বে। তাই জনগণকে উষ্ণ পোশাক ব্যবহার করা, রাতে বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে শিশুরা ও বৃদ্ধদের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।”

পঞ্চগড়ে শীতের প্রকোপ ক্রমেই বাড়ার ফলে মানুষ ও কৃষকরা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রস্তুতির সঙ্গে জীবনযাপন করছেন। শীতের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে হলেও ব্যক্তিগত সতর্কতা ও প্রশাসনের সচেতনতা পরিস্থিতি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত