একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট যৌক্তিক: অর্থ উপদেষ্টা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩১ বার
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহেদ

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহেদ বলেছেন, একদিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা অনেক বেশি যৌক্তিক। তিনি বলেন, আলাদা দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা হলে তা প্রশাসনিক ও আর্থিকভাবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, একই দিনে এই দুটি প্রক্রিয়া একসঙ্গে সম্পন্ন করলে খরচ ও সংস্থান ব্যবস্থাপনাকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, একসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোটের কারণে মোট বাজেট কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এটি সমস্যা নয়, কারণ নির্বাচন কমিশনের চাহিদার ভিত্তিতে বরাদ্দ প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচন এবং গণভোটের জন্য বাজেটের কোনো সংকট হবে না। তফসিল ঘোষণার পর প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হবে। স্পর্শকাতর ভোটকেন্দ্রগুলোতে বডি ক্যামেরা ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেবে।”

ড. সালেহউদ্দিন আহেদ মনে করেন, নির্বাচন ও গণভোট দুই দিনে ভাগ করা গেলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হবে। একদিনে ভোটগ্রহণ করলে ভোটারদের সুবিধা এবং প্রশাসনের কার্যক্রম উভয়ই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, “পৃথিবীর অনেক দেশেই একদিনে একাধিক ভোট বা গণভোট আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের জন্যও এটি সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং তাদের সুবিধার্থে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যেই যে বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে গণভোট এবং প্রবাসীদের জন্য ভোটের ব্যবস্থা সংযোজনের ফলে কিছুটা বৃদ্ধি হবে। তবে এটি বাজেটের সীমার মধ্যে রাখা সম্ভব এবং দেশের অর্থনীতির ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

বাজেটের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ও প্রযুক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও অর্থ উপদেষ্টা গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, “ভোট গ্রহণ ও গণভোটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য সকল প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাব পড়া এড়ানো যায়।”

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, একদিনে নির্বাচন ও গণভোট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো এটি জনগণের জন্যও সুবিধাজনক। ভোটারদের বারবার কেন্দ্রে যাওয়ার ঝামেলা কমবে এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার ঝুঁকি কমে যাবে। তিনি বলেন, “একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা হলে দেশের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। এটি প্রশাসনিক কার্যকারিতার দিক থেকেও যৌক্তিক।”

ড. সালেহউদ্দিন আহেদ এ সময় জানান, সরকারের লক্ষ্য নির্বাচন ও গণভোটকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে যাতে ভোটাররা নির্দ্বিধায় ভোট দিতে পারে এবং গণভোটও সুষ্ঠু হয়।

অর্থ উপদেষ্টা সভায় আরও ঘোষণা করেন, সরকার ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন বাসমতি চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনসাধারণের প্রয়োজন মেটাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমদানি প্রক্রিয়া দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে যাতে চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা যায়।

সভায় সাংবাদিকরা বাজেট ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। অর্থ উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। গণভোট এবং প্রবাসীদের ভোটের জন্য অতিরিক্ত খরচ সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, “একদিনে নির্বাচন এবং গণভোট আয়োজন করলে প্রশাসনিক কার্যক্রমও সহজ হবে এবং সম্পদ ও মানববল সাশ্রয় হবে।”

ড. সালেহউদ্দিন আহেদ বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ একদিনে একাধিক ভোট বা গণভোটের ব্যবস্থা ব্যবহার করে থাকে। এটি আমাদের জন্যও কার্যকরী। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় জনগণও সুবিধা পাবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমে যাবে।

সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হচ্ছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।

সর্বশেষ, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহেদ সংবাদকর্মীদের আশ্বস্ত করেন, নির্বাচন এবং গণভোট সম্পূর্ণ নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত