প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিশ্বাস প্রকাশ করেছে যে প্রধান নির্বাচন উপদেষ্টা দেশের পরবর্তী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন। তবে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একইসাথে সতর্ক করেছেন যে কিছু কিছু উপদেষ্টার আচরণে এই বিশ্বাস কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষকদের আন্দোলনে অংশগ্রহণকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, “বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখে যে তিনি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম। তবে দেখা যাচ্ছে, কিছু কিছু উপদেষ্টা হয়তো সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে আগ্রহী নন। এ কারণে আমাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “এটি শুধু একটি রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি দেশের গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি প্রভাবিত হবে।”
এসময় নন-এমপিও শিক্ষকদের দাবিকে শতভাগ ন্যায়সংগত উল্লেখ করে রিজভী আন্দোলনের সাথে বিএনপির একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “শিক্ষকরা দেশের ভিত্তি স্থাপন করেন। নন-এমপিও শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির দাবি করছেন। এই দাবিকে সমর্থন না করা মানে শিক্ষার প্রতি অবহেলা করা। বিএনপি এই আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায় এবং শিক্ষকদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে।”
নন-এমপিও শিক্ষকদের আন্দোলন বর্তমানে ২৩তম দিনে প্রবেশ করেছে। সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্যপরিষদের ব্যানারে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় চার হাজার শিক্ষক অংশগ্রহণ করছেন। আন্দোলনের মধ্যে রয়েছে অনশন, ধর্মঘট ও গণসংযোগ। শিক্ষকরা দাবি করছেন যে তাদের এমপিওভুক্তি না থাকলে চাকুরিতে স্থায়িত্ব, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
রিজভী বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে লক্ষ্য করে আমরা দেখছি, শিক্ষকদের প্রতি তাদের মনোভাব যথাযথ নয়। গরীব ও সাধারণ শিক্ষকরা যেন দেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য হন না। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারকে উচিত শিক্ষকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকরা শুধু শিক্ষা দিচ্ছেন না, তারা সমাজের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক মান বজায় রাখছেন। তাদের নিরাপত্তা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
নন-এমপিও শিক্ষকদের আন্দোলন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করছে। দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আন্দোলন শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি নীতি ও রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে। তারা জানান, শিক্ষকদের আন্দোলন শুধুমাত্র এমপিওভুক্তির দাবি নয়, এটি শিক্ষাক্ষেত্রে সমতা, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়ের প্রতীক হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
এদিকে, জাতীয় প্রেস ক্লাবের বাইরে শিক্ষকদের সঙ্গে সংলাপের সময় রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আশা করি সরকার শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি মেনে চলবে এবং তাদের এমপিওভুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করবে। এটি শুধু শিক্ষকদের জন্য নয়, দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও জানান, বিএনপি সরকারের প্রতি নিরপেক্ষ ও সুসংগত প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের আহ্বান জানাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধান উপদেষ্টার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। তবে এর জন্য প্রয়োজন পূর্ণ স্বচ্ছতা, প্রক্রিয়ার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান আচরণ। রিজভীর মন্তব্যও এই প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে বলা যায়। তিনি জানান, “নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা অর্জন করা এবং তাদের ভোটের মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রধান উপদেষ্টার মূল দায়িত্ব।”
শিক্ষকদের আন্দোলন ও প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন সচেতন রয়েছে। রিজভী বলেন, “যদি নির্বাচন ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দৃঢ় হবে। এটি শিক্ষাক্ষেত্রসহ সকল সামাজিক খাতকে উৎসাহিত করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপি সবসময় দেশের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে বলেও জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণে সচেতন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন এবং তাদের চাহিদা সরকারের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
রিজভীর মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আরও জোরালো করেছে। তিনি বলেন, “শিক্ষকরা শুধুমাত্র শিক্ষার প্রভাকর্তা নন, তারা সমাজের নৈতিক মানদণ্ড রক্ষাকারী। তাদের স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। বিএনপি তাদের পাশে রয়েছে এবং তাদের চাহিদা বাস্তবায়নের জন্য চাপ প্রয়োগ করবে।”
শেষ পর্যন্ত, রিজভীর এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক সচেতনতা ও শিক্ষাক্ষেত্রের স্বচ্ছতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তিনি দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করবে এবং শিক্ষকদের দাবি ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।