এএফসি বাছাইয়ে ব্রুনাইকে ৮–০ গোলে বিধ্বস্ত করল বাংলাদেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৫ বার
এবার ব্রুনাইকে ৮ গোলে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চীনের চংকিংয়ে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ বাছাইপর্বে দারুণ ছন্দে এগিয়ে যাচ্ছে লাল-সবুজের কিশোররা। প্রতিযোগিতার শুরুর দিন থেকেই তারা যে আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে, তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ব্রুনাই দারুসসালামকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দল। এর আগে প্রথম ম্যাচে তিমুর লেস্তেকে ৫-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তি ও প্রস্তুতির জানান দিয়েছিল কিশোররা। দ্বিতীয় ম্যাচেও সেই ঝলক ধরে রেখে দলীয় সমন্বয়, পাসিং, ডিফেন্স–ট্রানজিশন থেকে শুরু করে আক্রমণভাগ—সব ক্ষেত্রেই ছিল নিখুঁত পারফরম্যান্স।

চংকিংয়ের স্টেডিয়ামজুড়ে ম্যাচ শুরুর পরপরই ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের ফুটবলারদের আগ্রাসী ছন্দ। শুরু থেকেই বল দখলে রেখে ব্রুনাইয়ের ডিফেন্স ভাঙতে ধৈর্য নিয়ে আক্রমণ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের কোনঠাসা ডিফেন্স লাইনের ভেতর দিয়ে বারবার পাস আদানপ্রদান করে তৈরি করেছে গোলের সুযোগ। ম্যাচের মাত্র ১৩তম মিনিটেই সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় লাল-সবুজের যুবারা। ফয়সালের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে অপু ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে প্রথম গোল করেন। গোলের পরই স্পষ্ট হয়ে যায়, ম্যাচটির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের পায়ের কাছেই থাকবে।

২৩তম মিনিটে আসে ম্যাচের দ্বিতীয় গোল। রিফাত কাজী মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত এক শটে বল পাঠিয়ে দেন জালের ভেতর। এই গোলটি শুধু স্কোরলাইন বাড়ায়নি, পুরো দলের উদ্দীপনা আরও বাড়িয়ে দেয়। এই গোলের মাত্র কয়েক মিনিট পরই রিদুয়ানের পাস ধরে ফয়সাল তৃতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন। প্রতিপক্ষ ডিফেন্স এ সময় ছিল সম্পূর্ণ ছন্নছাড়া, বারবার পাস কাটা, মার্কিং ভুল এবং লং বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থতার কারণে চাপে পড়ে তারা।

পরের মিনিটেই আসে চতুর্থ গোল। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে মানিক ডি-বক্সের বাইরে থেকে আকর্ষণীয় এক দূরপাল্লার শট নেন। শক্তিতে পরিপূর্ণ সেই শট সোজা গিয়ে জালে লেগে পড়ে। ব্রুনাই গোলরক্ষক কোনোভাবেই বলটি থামাতে পারেননি। এই সময়ে ব্রুনাইয়ের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, তারা আর ম্যাচটি প্রতিযোগিতামূলক রাখতে পারছে না। বাংলাদেশের দ্রুতগতির ফুটবল এবং পাসিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারছিল না ব্রুনাই।

দ্বিতীয়ার্ধেও বাংলাদেশ একই ছন্দ বজায় রেখে খেলতে থাকে। হাফটাইমে ৪-০ গোলে এগিয়ে থেকেও সন্তুষ্ট হয়নি কিশোররা। কোচ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আরও আক্রমণ করতে, কারণ গোল পার্থক্য গ্রুপ পর্বে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। মাঠে নেমেই সেই নির্দেশনাকে বাস্তবে রূপ দেয় ফুটবলাররা।

রিফাত কাজী দ্বিতীয়ার্ধে তার ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন। ওপেন প্লে থেকে তৈরি হওয়া দুর্দান্ত এক আক্রমণে তিনি বল পেয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান। পরে অপুও তার দ্বিতীয় গোল যোগ করেন ম্যাচে। এই দুই খেলোয়াড়ই ছিলেন পুরো ম্যাচজুড়ে বাংলাদেশের আক্রমণভাগের প্রাণ কেন্দ্র। তাদের গতি, বল কন্ট্রোল, ওভারল্যাপিং এবং ফিনিশিং ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল।

শেষদিকে আলিফ ও বায়েজিদ একটি করে গোল করে দলের গোলসংখ্যা দাঁড় করান ৮-এ। ব্রুনাইয়ের ডিফেন্স বারবার ভেঙে পড়ার কারণে বাংলাদেশের প্রতিটি আক্রমণই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে ব্রুনাইয়ের খেলোয়াড়রা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল বলেই বহু সহজ সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ।

অষ্টম গোলের পরও দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে শৃঙ্খলা ছিল লক্ষণীয়। অতিরিক্ত উদযাপন বা প্রতিপক্ষকে অসম্মান না করে বরং পেশাদার ফুটবলারের মতোই দায়িত্বশীল আচরণ করেছে তারা। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের কোচ জানিয়েছেন, এই জয়ের পেছনে খেলোয়াড়দের সমন্বয়, কঠোর পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলা কাজ করেছে। কোচ আরও জানান, এই বড় জয়ের গুরুত্ব ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাছাইপর্বের এই শক্তিশালী পারফরম্যান্স বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও কাঠামোগত উন্নয়নের ফল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একসময়ে যেই বিভাগে ধারাবাহিক সাফল্যের অভাব ছিল, সেখানে এখন স্পষ্ট উন্নতি দেখা যাচ্ছে। যুব খেলোয়াড়দের ফিটনেস, টেকনিক্যাল স্কিল, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং মাঠের পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত পরিকল্পনা বদলে নেওয়ার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ দল এখন শুধু ম্যাচ জিতছে না, বরং প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে আধিপত্য বিস্তার করে খেলছে—যা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

এই জয়ের পর গ্রুপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। তিমুর লেস্তে ও ব্রুনাইয়ের বিরুদ্ধে বড় জয় দলের আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি গোল পার্থক্যেও বড় সুবিধা এনে দিয়েছে। দলের পরবর্তী ম্যাচগুলো হবে আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেগুলো নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ মূলপর্বে উঠবে কি না। তবে বর্তমান পারফরম্যান্সে বোঝা যাচ্ছে, এই দলটিই পারে দেশের ফুটবলে নতুন এক যুগের সূচনা করতে।

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। অনেকেই ভবিষ্যতের জাতীয় দল গঠনে এই খেলোয়াড়দের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, চংকিংয়ের এই জয় শুধু দলের নয়, পুরো বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতির জন্যই আশা জাগানিয়া এক বার্তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত