ট্রাম্প বলেন: সহায়তা পেও কৃতজ্ঞতা দেখায়নি ইউক্রেন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১ বার
সহায়তা পেও কৃতজ্ঞতা দেখায়নি ইউক্রেন

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ এবং শান্তি প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য। তিনি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন যে, যুদ্ধ বন্ধে যে সমস্ত সহায়তা যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে, তাতেও ইউক্রেন কোনো কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করেনি। ট্রাম্পের এ মন্তব্য জেনেভার আলোচনার সময় আসে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিরা ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করছিল।

ট্রাম্পের ক্ষোভ সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের কিছুক্ষণ পরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কি নিজের পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি ব্যালান্স করার চেষ্টা করেছেন। জেলেনস্কি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রত্যেক মার্কিন নাগরিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা রয়েছে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি, যিনি ইউক্রেনের জন্য জীবন রক্ষার প্রচেষ্টায় অঙ্গীকারবদ্ধ। এই পোস্টের মাধ্যমে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন।

জেলেনস্কি বলেন, “আমেরিকানদের সঙ্গে আমাদের সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা স্পষ্ট সংকেত পাচ্ছি যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল আমাদের কথা শুনছে এবং সেই অনুযায়ী সহযোগিতা করছে।” এই সংলাপ দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।

অন্যদিকে, আলোচনা শেষে মার্কিন পরিকল্পনা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলে উভয়পক্ষের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন এবং কিয়েভ যৌথভাবে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে, যেখানে বৈঠকের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আজকের আলোচনা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং অর্থবহ। তিনি উল্লেখ করেছেন, “এটি চলতি বছরের জানুয়ারির পর আমাদের সবচেয়ে কার্যকর বৈঠক এবং দিন। তবে এখনও কিছু কাজ বাকি আছে, যা আমাদের দল সম্পন্ন করছে।”

ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান আন্দ্রি ইয়েরমাক বলেন, “আমরা স্থায়ী শান্তির দিকে ভালো অগ্রগতি করেছি। ইউক্রেনের জনগণ শান্তি চায় এবং এটি তাদের প্রাপ্য। আমাদের বড় বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার দলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ, যারা এই শান্তির জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।”

এই বৈঠকে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছিলেন। ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং জার্মানির কূটনীতিকরা কিয়েভে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তারা শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর মনোযোগ দিয়েছেন এবং ইউক্রেনের স্থিতিশীলতার জন্য তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য এবং জেলেনস্কির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। প্রথমত, ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কিয়েভের প্রতি চাপের ইঙ্গিত বহন করে। দ্বিতীয়ত, জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া ইউক্রেনের কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের গুরুত্বকে তুলে ধরে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

এছাড়া, ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনা আলোচনায় আলোচকরা যুদ্ধবিরতি, মানবাধিকার, পুনর্বাসন, ইউক্রেনের সীমানার নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বৈঠক শেষে উভয়পক্ষই বলেছেন যে, এখনও কিছু বিষয়ে সমন্বয় প্রয়োজন, তবে যে অগ্রগতি হয়েছে তা ইতিবাচক এবং তা শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, ট্রাম্পের মন্তব্য ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরও আকর্ষণ করেছে। জেলেনস্কির দ্রুত প্রতিক্রিয়া দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।

সংক্ষেপে, ইউক্রেন–যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় ট্রাম্প বলেন, সহায়তা পেও কৃতজ্ঞতা দেখায়নি ইউক্রেন, কিন্তু জেলেনস্কি তাৎক্ষণিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বৈঠকে ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনা, যুদ্ধবিরতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক ফলপ্রসূ হলেও কিছু কার্যক্রম এখনো বাকি রয়েছে, যা উভয়পক্ষ সমন্বয় করে সম্পন্ন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত