হাইমচরে আমনের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৮ বার
হাইমচরে আমনের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক

প্রকাশ: প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে খুশির ঝলক ফুটিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সঠিক কৃষি পরামর্শ এবং নতুন ধানের জাতের চাষের সমন্বয়ে ফলন আশানুরূপভাবে বেড়েছে। উপজেলার মাঠজুড়ে এখন চলছে ধান কাটা এবং মাড়াইয়ের কাজ, আর কৃষকরা নতুন বছরের আশা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে ব্যস্ত।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি আমন মৌসুমে ধানের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৭৫৪ হেক্টর। তবে চাষের বাস্তব পরিমাণ হয়েছে ১ হাজার ৭৬০ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া, এবারের আবহাওয়া ছিল কৃষকদের জন্য অনুকূল, যা ধানের বৃদ্ধি ও ফলনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাকিল খন্দকার জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে চাষিদের মধ্যে নতুন ধানের জাতগুলো প্রচলিত করা হয়েছে। বিশেষভাবে রোপা আমনের ক্ষেত্রে হাইব্রিড জাতের ধান চাষের ফলে রোগবালাই কম এবং ফলন ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের পরামর্শ ও কৃষকদের সচেতনতার কারণে এবার বাম্পার ফলন সম্ভব হয়েছে। ধান কাটার কাজ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি এলাকায় শুরু হয়েছে।”

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হাইমচরের বিভিন্ন এলাকায় বিআর-২২, বিআর-২৩, ব্রি ধান ৪৮-৪৯ সহ হাইব্রিড ও উফসী জাতের চারা রোপণ করা হয়েছে। স্থানীয় জাতের ধানও কিছু এলাকায় চাষ হয়েছে। সব ধরনের ধানেই এবার আশানুরূপ ফলন হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের মৌসুমে রোগবালাই ও কীটনাশক সমস্যা কম থাকার কারণে কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছেন।

৩নং দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের পূর্বচর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ ব্যাপারী মাঠে ধান মাড়াই করতে গিয়ে বলেন, “আমন ধানের এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পেলে আরও উপকৃত হইতাম, তবে ফসলের ভালো ফলন আমাদের খুশি দিয়েছে।” একই গ্রামের আরেক কৃষক দুলাল আখন জানান, “এই বছর আমাদের ৭০ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ ফলন হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।”

২নং আলগী দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের লামচর গ্রামের কৃষক তনু ব্যাপারী এবং নয়ানী লক্ষীপুর গ্রামের নুরু মুন্সি উল্লেখ করেছেন, এই বছরের রোগবালাই কম থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। তবে তারা সারের দাম কমানোর আহ্বানও জানিয়েছেন, কারণ সারের উচ্চমূল্য কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি করছে।

উপজেলার কৃষকরা জানান, বাম্পার ফলনের এই আনন্দে তারা আশা করছেন ধানের ন্যায্য বাজারমূল্য পেলে তাদের উৎসাহ আরও বৃদ্ধি পাবে। এখন হাইমচরের মাঠে মাড়াইয়ের কাজ তুঙ্গে, আর কৃষকের মুখে সন্তুষ্টির হাসি। ধানের ফলন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কৃষি খাতে এ ধরণের সাফল্য স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ধানের নতুন জাতের চাষ, সঠিক সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা, এবং রোগবালাই কম থাকার কারণে এই বাম্পার ফলন সম্ভব হয়েছে। তারা কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন, ফসল সংগ্রহের পরে যথাযথ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে যাতে তারা সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক লাভ পান।

এবারের ফলন শুধু কৃষকের জন্যই নয়, স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও আশার বার্তা দিয়েছে। হাইমচরের ধান উৎপাদন এলাকার অন্যান্য উপজেলা ও জেলা পর্যন্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। কৃষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি উৎপাদন এবং উন্নত জাতের ধান চাষের মাধ্যমে তারা নিজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে পারবেন।

এছাড়া, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা মাঠে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে কৃষকের সমস্যার সমাধান, প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান এবং ফসলের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছেন। হাইমচরের কৃষকেরা তাই এবারের আমন ধান মৌসুমে সন্তুষ্টি ও আত্মবিশ্বাসে মুখর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত