সিলেটে জামায়াতসহ ৮ দলের মহাসমাবেশ ৬ ডিসেম্বর

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৭৩ বার
সিলেটে জামায়াতসহ ৮ দলের মহাসমাবেশ ৬ ডিসেম্বর

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিলেট নগরী আগামী ৬ ডিসেম্বর দেশব্যাপী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন রঙ যোগ করতে যাচ্ছে, যখন জামায়াতসহ আটটি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে মহাসমাবেশের আয়োজন করবে। মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ৮ দলের লিয়াজো কমিটির প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। উক্ত সমাবেশ সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি বেলা ২টায় শুরু হবে। এতে অংশগ্রহণ করবেন আট দলের শীর্ষ ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্প্রতি জেলা ও মহানগর পর্যায়ে ৮ দলের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট লিয়াজো কমিটি গঠন করা হয়, যা সমাবেশের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। লিয়াজো কমিটিতে মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামকে সমন্বয়ক করা হয় এবং ১২ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

লিয়াজো কমিটির সদস্যদের মধ্যে ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি মাওলানা সাঈদ আহমদ, মহানগর সভাপতি ডা. রিয়াজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি মাওলানা এমরান আলম ও জেলা সভাপতি মাওলানা মো. ইকবাল হোসাইন, খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ ও মহানগর সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, নেজামে ইসলাম পার্টি মহানগর সভাপতি মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার ও জেলা সভাপতি হাফিজ মাওলানা আবু ইউসুফ চৌধুরী, খেলাফত আন্দোলন জেলা সভাপতি মাওলানা নাসির উদ্দিন, জাগপা সিলেট মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি মহানগর সভাপতি কবির আহমদ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ৮ দলের কেন্দ্রীয় লিয়াজো কমিটির পক্ষে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি জানান, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশকে বৈষম্যহীন ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্গঠন করতে ৮ দল যৌথভাবে ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মসূচি পালন করে আসছে। এই মহাসমাবেশ এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতা হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে মহাসমাবেশের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ৩০ নভেম্বর থেকে এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয় এবং সিলেট এই ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি প্রকাশ করেন, মহাসমাবেশের মাধ্যমে জনগণকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করা হবে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

সিলেটে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশের মাধ্যমে আট দলের নেতারা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাইছেন যে, তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নয়, বরং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সমর্থন করা। তারা জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সমাধান এবং ন্যায়সঙ্গত রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে। লিয়াজো কমিটি এই মহাসমাবেশের সব কার্যক্রম সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে।

সভায় অংশ নেওয়া নেতারা এও জানিয়েছেন, মহাসমাবেশে বক্তৃতাগুলো এমনভাবে গঠন করা হবে যাতে তা সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পর্শ করতে পারে এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। বক্তৃতাগুলোতে দেশব্যাপী চলমান সমস্যা, সমাজে বৈষম্য ও উন্নয়নের অভাব, এবং নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব নিয়ে আলোকপাত করা হবে। এছাড়া, জনগণকে স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ সরকারের প্রয়োজনীয়তার দিকে মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করা হবে।

সিলেটে এই মহাসমাবেশ কেবল রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। মহাসমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য শোনার সীমাবদ্ধতায় থাকবে না, বরং তারা দেশের বর্তমান অবস্থা ও সরকারের নীতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারবে। এতে অংশগ্রহণকারীরা তাদের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন এবং স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সরাসরি সংলাপে অংশ নিতে পারবেন।

এই মহাসমাবেশ কেবল রাজনৈতিক নেতাদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। মহাসমাবেশের মাধ্যমে নাগরিকরা দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশব্যাপী স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি হবে।

সিলেটের এই সমাবেশ দেশীয় রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এটি একটি বৃহৎ উদ্যোগ, যা আট দলের সমন্বয় ও ঐক্য প্রদর্শন করে। মহাসমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যাশা, দেশকে মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত পথে পরিচালনা করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক নেতারা কাজ চালিয়ে যাবেন। সমাবেশটি কেবলমাত্র রাজনৈতিক ইভেন্ট নয়, এটি মানুষের সচেতনতা, অংশগ্রহণ এবং দেশের উন্নয়নে জনগণের ভূমিকা শক্তিশালী করার একটি প্রয়াস।

উল্লেখ্য, মহাসমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ও সংগঠিত সমাবেশ নিশ্চিত করা হবে।

সার্বিকভাবে, সিলেটে ৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জামায়াতসহ ৮ দলের মহাসমাবেশ কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, এটি দেশের নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজে দায়িত্বশীল নাগরিক চেতনা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সমাবেশ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উদ্যম সৃষ্টি করবে এবং জনগণকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত