রোগ-শোক-সংকটেও দেশকে ছেড়ে যাননি খালেদা জিয়া

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৭ বার
খালেদা জিয়া সিসিইউতে, সারাদেশে দোয়া আজ

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বুধবার জাতীয়তাবাদী মহিলাদল আয়োজিত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তাঁর জীবনের নানা অধ্যায় এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের আলোকে দলের চেয়ারপার্সনের অবদানের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে রিজভী বলেন, “আমাদের প্রেরণা বেগম খালেদা জিয়া। কত রোগ-শোক ও সংকটের মধ্যেও এই দেশকে ছেড়ে যাননি। এটা আমাদের কত বড় অহংকার—তার মতো নেতৃত্ব আমরা পেয়েছি।”

রিজভী জানান, শুধু রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, একজন মানবিক ও দেশপ্রেমিক নেতা হিসেবে খালেদা জিয়ার অবদান অনন্য। তিনি বলেন, “আমাদেরকে গহীন অন্ধকারের মধ্যে আলোর পথ দেখিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। সংকটের মধ্যেও কীভাবে মাথা উঁচু করে থাকতে হয়, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কীভাবে সংযমী হয়ে কথা বলতে হয়, তিনি আমাদের সেই শিক্ষা দিয়েছেন।”

বিএনপির সিনিয়র নেতা রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তার ব্যক্তিগত জীবনের কতকগুলো বড় ধাক্কা সামলেছেন। স্বামী হারানো, বাড়ি হারানো এবং চোখের সামনে সন্তানদের বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন সহ্য করার পরও তিনি দেশের প্রতি আনুগত্য এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রেখেছেন। রিজভী বলেন, “তিনি দেশের মানুষ, মাটি, পানি—কিছুই ছেড়ে যাননি। এক অদ্ভুত বিশাল হৃদয় নিয়ে, অদ্ভুত দেশপ্রেম নিয়ে, স্বামীর রেখে যাওয়া বাংলাদেশকে রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি থেকেছেন। অথচ দেখেছি—আরেকজন, একটু সমস্যা হলেই পালিয়ে গেছেন। দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।”

রিজভী আরও অভিযোগ করেন, দেশের ক্ষমতাসীনদের বৈষম্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, “আজ দেখলাম—অগ্রণী ব্যাংকের ভল্টে ৮৩২ ভরি সোনা, শেখ হাসিনার দুইটি ভল্টে! কত বড় চোর হলে এসব সম্ভব? সে জানে সে চোর। দেশনেত্রী বেগম জিয়ার ব্যাংকে তো কোনো সোনা পাওয়া যায়নি। শেখ হাসিনা ও তার লোকেরা বড় বড় কথা বলত—‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশ ছেড়ে পালায় না’! কিন্তু যাদের চরিত্র চোরের, ডাকাতের, দস্যুর—তারা তো কাপুরুষ। আর যখন ডাকাত—দস্যু—চোররা ধাওয়া খায়, তখন সবকিছু ফেলেই পালাতে হয়।”

রিজভী বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও জনগণের অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমরা চাই, আগামী নির্বাচন রমজানের আগে ফেব্রুয়ারি মাসে—যেটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, সরকারও যেটা অঙ্গীকার করেছে—সেই অনুযায়ী জনগণের অধিকার নিশ্চিত হোক। জনগণ যেন স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সংকট ও সংগ্রামের গল্পও তুলে ধরা হয়। রিজভীর বক্তব্যে প্রকাশ পায় যে, খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত দুর্দশা, রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা ও অসংখ্য চ্যালেঞ্জের মধ্যে থেকেও দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা হারাননি। তিনি ছিলেন এমন এক নেতা, যিনি ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে দেশের মাটির প্রতি নিজের অঙ্গীকারে অটল ছিলেন।

রিজভীর ভাষায়, খালেদা জিয়ার এই উদাহরণ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয়। নেত্রীর ধৈর্য, সংকল্প এবং দেশপ্রেম রাজনৈতিক নেতাদের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করে। রিজভী বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার জীবন আমাদের দেখিয়েছে, কিভাবে ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং সংকটকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায় এবং দেশের কল্যাণে তা ব্যবহার করা যায়।”

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা রিজভীর বক্তব্যের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং নেত্রীর সুস্থতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের মহিলা নেত্রী ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন এবং তারা একসময় বললেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, সামাজিক ও মানবিক ক্ষেত্রে দেশপ্রেমের প্রতীক।

রিজভী তার বক্তব্যে আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে স্বাধীনতা, ন্যায় ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সকলের সচেতন ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি জনগণকে উদাত্তভাবে সতর্ক করেন যে, দেশের ভবিষ্যৎ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য দায়িত্বশীল ও সক্রিয় থাকা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।

সার্বিকভাবে, রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের মাধ্যমে পাঠকরা দেখতে পান যে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, মানবিক ও দেশপ্রেমিক দিক থেকেও শিক্ষণীয়। দীর্ঘ রোগ, শোক এবং বিভিন্ন সংকটের মধ্যে থেকেও নেত্রী দেশের প্রতি নিজের অঙ্গীকারে অটল থাকায় রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য তিনি অনন্য প্রেরণা হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। তার এই ধৈর্য ও সাহস বিএনপির কর্মী এবং দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের উদাহরণ স্থাপন করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত