জামায়াতে ইসলামীর চাঁদাবাজি–দুর্নীতির কোনো অভিজ্ঞতা নেই: ডা. শফিকুর

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬১ বার
জামায়াতে ইসলামীর চাঁদাবাজি–দুর্নীতির কোনো অভিজ্ঞতা নেই: ডা. শফিকুর

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর ভাসানটেক এলাকায় আয়োজিত ঢাকা-১৭ আসনের যুব, ছাত্র ও নাগরিক গণসমাবেশে বক্তৃতা দিয়ে দলের নীতি ও অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, দেশের জনগণের সম্পদ চুরি, দলীয় কর্মীদের মাধ্যমে চাঁদাবাজি, কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা জামায়াতের নেই। এমনকি সর্বপর্যায়ে মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত দুর্নীতি করার কোনো ইতিহাসও দলের নেই। ডা. শফিকুরের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে দেশের মানুষের সেবা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখে।

বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে জনগণ যাদের কর্মসূচি সমর্থন করে, যাদের বক্তব্যে আস্থা রাখে, তাদেরই বাছাই করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা জনগণের অগ্রাধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। তাদের অভিনন্দন জানানোর প্রস্তুতি শুরু করেছি।” এসময় তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের ওপর জোর দিয়ে জানান, দলের মূল লক্ষ্য দেশের জনগণের কল্যাণ এবং ন্যায়পরায়ণ ও স্বচ্ছ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

ডা. শফিকুর বলেন, ফ্যাসিবাদ zwar পতন হয়েছে, কিন্তু তা এখনও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। ফ্যাসিবাদের কিছু লক্ষণ এখনও সমাজে বিদ্যমান। তিনি এ লক্ষণগুলোকে পাঁচটি মূল দিকের মাধ্যমে চিহ্নিত করেন: দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি, পরিবার ও সমাজে নারীর মর্যাদার প্রতি আঘাত, এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে অশনি সংকেতের মতো অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, এই ধরনের কার্যকলাপ সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ক্ষমতায় গেলে দলের লক্ষ্য হবে সব ফ্যাসিবাদ-বিরোধী রাজনৈতিক দলকে একত্রিত করে সরকার গঠন করা। তিনি বলেন, “আমরা বিভক্ত জাতি আর দেখতে চাই না। আমরা চাই না, দেশ অন্য কোনো দুশমন রাষ্ট্রের নীতির প্রভাবে পরিচালিত হোক।” ডা. শফিকুরের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হলো, জামায়াত দেশের স্থিতিশীলতা ও স্বাধিকার রক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, জামায়াত কখনোই ইসলামী দেশ ছেড়ে পালায় না। দেশের জনগণ বস্তাপচা রাজনীতি আর দেখতে চায় না। তিনি মন্তব্য করেন, নতুন বাংলাদেশ পুরোনো ফর্মুলায় চলবে না; বরং নতুন ফর্মুলার মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হবে। জনগণ চায় মানুষের সরকার, যেখানে নেতৃত্ব জনগণের সেবা ও কল্যাণের দিকে মনোযোগী।

ডা. শফিকুর জামায়াতকে দেশের রাজনীতি থেকে ব্যান করার ষড়যন্ত্রের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের ভিতরে দলটি সবসময়ই সক্রিয় ছিল, দেশের মাটিকে আঁকড়ে ধরে জনগণের সঙ্গে ছিল। দলের সদস্যরা জেল ও জীবন দিয়ে দেশকে রক্ষা করেছেন, কিন্তু কখনো দেশ ছেড়ে পালায়নি। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলের অবিচল অঙ্গীকার এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন ঘটান।

বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর পুরোনো সন্ত্রাসীদের নতুন রূপে ফিরে আসার সতর্কতা দেন। তিনি বলেন, জনগণের হৃদয়ে যে ভালোবাসার পোস্টার লেগে গেছে তা কেউ ছিঁড়তে পারবে না। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করেন যে, দল দেশের কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাদের ঐক্য নষ্ট করতে পারবে না।

এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ডা. শফিকুরের ভাষণে দেখা যায়, জামায়াতের মূল উদ্দেশ্য কেবল রাজনৈতিক শক্তি অর্জন নয়, বরং দেশের জনগণকে ন্যায়, স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা প্রদান। তিনি বারবার জনগণের কল্যাণ ও স্বার্থকে দলের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।

এদিনের সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ডা. শফিকুরের বক্তব্যকে সমর্থন জানান। তারা মনে করছেন, দলের এই দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের নাগরিক এই বার্তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভাজনকে কমিয়ে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

ডা. শফিকুরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, জামায়াত নিজেকে দেশের মানুষের সেবা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দলটি নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে ও জনগণের আস্থা অর্জন করতে সচেষ্ট। দেশের জনগণ যে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আশা করে, সেই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের এই সমাবেশ ও প্রধান বক্তৃতা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত