সাংবাদিকদের লেজুড়বৃত্তি না করে অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজের আহ্বান মির্জা ফখরুল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮৫ বার
সাংবাদিকদের লেজুড়বৃত্তি না করে অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজের আহ্বান মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলে সাংবাদিকদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো সাংবাদিকই যেন কোনও রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি না করে, বরং দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখে।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, তিনি দেশের গণমাধ্যমকে শুধুমাত্র সংবাদ পরিবেশনকারীর নয়, বরং সামাজিক ন্যায় ও মানুষের অধিকার রক্ষার শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে দেখতে চান। তিনি বলেন, “সংবাদকর্মীরা যদি নিজস্ব স্বাধীনতা এবং নৈতিক দায়িত্বের সঙ্গে দায়িত্বশীল না হন, তবে জনগণ কখনো সত্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে না। সাংবাদিকদের দায়িত্ব শুধু তথ্য সরবরাহ করা নয়, বরং সমাজে সত্য, ন্যায় এবং স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা।”

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পুরো জাতি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় আছে। তবে গণতন্ত্রের এই যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে রাজনৈতিক সহিংসতা এবং মব ভায়োলেন্সের মতো ঘটনা। তিনি সংবাদকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেন, এই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। “আপনারা যেন সঠিক তথ্য পরিবেশন করেন, সমাজকে বিভ্রান্ত না করেন এবং রাজনৈতিক শক্তির দোহাই না দেন—এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব,” তিনি বলেন।

ফখরুলের বক্তব্যের সঙ্গে মিল রেখেই উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও সাংবাদিকদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক সাংবাদিক লক্ষ্যে স্থির থাকতে পারছেন না। অনৈতিকতা, স্বার্থপরতা এবং মালিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সাংবাদিকদের ব্যবহার হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের কিছু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পুঁজিপতি মালিকদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দুর্নীতি ও লুটপাটের পাহারাদারের মতো কাজ করছে। এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, দেশের গণমাধ্যমে স্বাধীনতা ও নৈতিকতার অবনতি একসময় নাগরিকদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক। তবে দেশের জনগণের জন্য কিছু নীতিগত বিষয় সব দল একমত থাকা উচিত। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, যেখানে দলের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একমত থাকা জরুরি। মির্জা ফখরুল এবং মিয়া গোলাম পরওয়ার উভয়েই সাংবাদিকদের মনে করিয়ে দেন, গণমাধ্যমের শক্তি শুধুমাত্র সংবাদ পরিবেশনের জন্য নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যবহৃত হলে তা দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “সাংবাদিকরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করলে দেশের গণতন্ত্র আরও দৃঢ় হবে। সাংবাদিকরা যদি লেজুড়বৃত্তি করে কোনো দলের স্বার্থ রক্ষা করতে থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের জন্য তথ্যের স্বচ্ছতা এবং সত্যের প্রকাশ কমে যাবে। এটি গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।” তিনি জোর দেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে সমাজের অবহেলিত ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠকে শক্তিশালী করা।

প্রেসক্লাবের এই সমাবেশে আলোচনায় উঠে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বর্তমান অবস্থা। মির্জা ফখরুল মন্তব্য করেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সঠিক ব্যবহারে শক্তিশালী হাতিয়ার। কিন্তু এখন এটি অনেক সময় সংকট সৃষ্টি করছে। এখানে দায়বদ্ধতার অভাব এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাংবাদিকরা যদি নিজেদের দায়িত্ব সচেতনভাবে পালন না করেন, তবে এই মাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব সমাজে আরও বাড়বে।” তিনি সাংবাদিকদের সতর্ক করেন যে, নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার থাকলেও সেটি কখনো সমাজকে বিভ্রান্ত বা অস্থিতিশীল করতে ব্যবহার করা ঠিক নয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, এই আহ্বান সাংবাদিক সমাজের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নৈতিক দায়িত্বের উপর ফোকাস দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মির্জা ফখরুলের বক্তব্য সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে।

বক্তৃতার শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আপনারা লেজুড়বৃত্তি বা স্বার্থপরতার পথ থেকে বিরত থাকুন। জনগণের অধিকার ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করুন। যদি সাংবাদিকরা এই দায়িত্ব পালন করেন, তবে দেশের গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার শক্তিশালী হবে।” এই বার্তা থেকে স্পষ্ট যে, দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধুমাত্র সাংবাদিকদের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করছে, এবং এই দায়িত্ব পালনে সকলের দায়িত্ব সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সমাবেশে উপস্থিত অনেকে মনে করছেন, এই আহ্বান বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা। এটি শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, সাধারণ জনগণের জন্যও গুরুত্ব বহন করে, কারণ স্বাধীন ও দায়বদ্ধ গণমাধ্যমই সমাজের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের সুনিশ্চিত প্রেরণা হতে পারে।

মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব বহন করছে, কারণ বর্তমান সময়ের সংবাদ পরিবেশে সত্য ও নৈতিকতার ওপর চাপ অনেক। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য হলো জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা, এবং দায়িত্বশীলভাবে তথ্য পরিবেশন করে সমাজে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা। এই বার্তায় স্পষ্ট হয়েছে, রাজনৈতিক চাপ, মালিকানা বা স্বার্থপরতার দিকে নয়, বরং জনগণ ও সমাজের কল্যাণের দিকে মনোযোগ দিলে গণমাধ্যম সমাজের একটি শক্তিশালী pillar হিসেবে কার্যকর হতে পারবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত