ক্ষমতায় এলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনা করবে জামায়াত

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫২ বার
ক্ষমতায় এলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনা করবে জামায়াত

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করলে দেশ পরিচালনায় বিএনপিসহ সকল ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীর ভাষানটেক এলাকায় শুক্রবার আয়োজিত ঢাকা-১৭ আসনের যুব, ছাত্র ও নাগরিক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ইনশাআল্লাহ আমরা বিভক্ত জাতি আর দেখতে চাই না। যারা জাতিকে বিভক্ত করে, তারা জাতির শত্রু। আমরা চাই দেশের সব মানুষ সমান অধিকার, সমান সুযোগ পাবে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—একটি স্বচ্ছ, ন্যায়সংগত ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করা।” তিনি বলেন, জনগণের সম্পদ চুরি বা দুর্নীতির কোনো অভিজ্ঞতা তার দলের নেই। জনগণকে আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ক্ষমতায় এলে দেশ হবে সর্বজনের, নয় কোনো দলের অনুকূল।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “পুরনো ফরমূলা আর নতুন বাংলাদেশে চলবে না। জনগণ বস্তাপচা দুর্গন্ধ রাজনীতি চায় না। তারা চায় একটি ন্যায্য, দায়িত্বশীল ও সক্রিয় সরকার। সরকার যেন কোনো দলের পক্ষপাতদুষ্ট হয়, সেটিও জনগণ চায় না। জনগণ চায় তাদের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নত হোক। আমরা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে মিল রেখে কাজ করবো।”

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের একটি অংশ বিদায় নিয়েছে, কিন্তু তার সব ধরনের লক্ষণ এখনো বিদ্যমান। “আমরা দেখেছি, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ খোলা বুকে গুলি ও আগুনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। ছাত্র-যুবকের আকাঙ্ক্ষা ছিল উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, সুশিক্ষা। কিন্তু এই পরিবর্তন কেউ কেউ পছন্দ করে না। যারা ভয় দেখায়, তারা রাষ্ট্রের মূল সেবা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।”

দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়ে সমালোচকদের মন্তব্যের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “অনেকে বলে আমাদের দেশ চালানোর অভিজ্ঞতা নেই। হ্যাঁ, আমাদের কাছে পূর্বপ্রচলিত রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের অভিজ্ঞতা নেই। তবে আমাদের কাছে জনগণের সম্পদ চুরি, চাঁদাবাজি, গণরুমে টর্চার সেল গঠন বা দুর্নীতির অভিজ্ঞতা নেই। আমাদের লক্ষ্য একটি সৎ ও স্বচ্ছ প্রশাসন স্থাপন করা, যাতে জনগণ সরাসরি সরকারের কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “দুর্নীতিমুক্ত সমাজ তৈরি হলে বিভাজনের রাজনীতি আর থাকবে না। সাড়ে ১৫ বছরে জামায়াতকে ধ্বংস করতে চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু আমরা মাথা নত করি নি। এই লড়াই আমাদের দলের অটুট সাহসের প্রতিফলন।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিবির ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছে। এটি নতুন এক ইতিহাস তৈরি করেছে, যা প্রমাণ করে তরুণরা একটি ন্যায্য ও সৎ রাজনীতি চায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “সরকারের ম্যান্ডেটে আসতে পারবে না দেখে পুরনো সন্ত্রাসীরা নতুন রূপে ফিরে এসেছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি। আমরা ৩০০ আসনে নিষ্কলুষ প্রার্থীদের মনোনীত করেছি। জনসেবা যারা পেশা ও নেশা হিসেবে নিয়েছেন, তাদের হাতে জামায়াতের পতাকা তুলে দিয়েছি।”

জামায়াতের এই বক্তব্যে দেশের রাজনীতিতে একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল সরকারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমানের ভাষণে স্পষ্ট হয়েছে যে, দলটি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য নয়, বরং দেশকে একটি ন্যায্য ও সুশাসিত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার জন্য সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই জনগণ নিরাপদ ও স্বচ্ছ রাজনীতি দেখুক। আমরা চাই দেশের সমস্ত মানুষ যেন তাদের অধিকার ও সুযোগের জন্য স্বচ্ছভাবে অংশ নিতে পারে।”

সমাবেশে উপস্থিত যুব ও ছাত্ররা তার বক্তব্যে উৎসাহিত হয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিভাজন ও দুর্নীতির কারণে দেশে সুষ্ঠু প্রশাসন গড়ে ওঠেনি। জনজীবনে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, সেটি দূর করতে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রয়োজন। ডা. শফিকুর রহমানের প্রতিশ্রুতি, সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলার এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্য, অনেকের মনে আশার সঞ্চার করেছে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন শুধুমাত্র রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করে না, বরং দেশের মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নকে ব্যাহত করে। তিনি বলেন, “আমরা চাই না দেশের মানুষ বিভাজনের শিকার হোক। আমাদের লক্ষ্য একটি সমাজ যেখানে সবাই সমান অধিকার পাবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মতামত ও চাহিদা সমানভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা বিএনপিসহ সকল ফ্যাসিবাদবিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো।”

তিনি সমাবেশে আরো স্পষ্ট করেন, ক্ষমতায় এলে তার দল দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প এবং যুব উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। তিনি বলেন, “আমাদের যুবকেরা শিক্ষার ক্ষেত্রে সুযোগ বঞ্চিত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত করতে হবে। শিল্প ও প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর দেশ গঠনের জন্য আমরা পরিকল্পিতভাবে কাজ করবো। সবকিছুই জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থাকবে।”

ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী স্পষ্ট করেছে যে, তাদের রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকা নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য সবাইকে একত্রিত করে সমন্বিতভাবে কাজ করা। দেশের মানুষ যাতে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সুশাসিত পরিবেশে বসবাস করতে পারে, সেটি তাদের প্রধান লক্ষ্য।

সমাবেশ শেষে উপস্থিত জনতা বলেন, দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে যে বিভাজন, চক্রান্ত ও দুর্নীতির পরিবেশ বিরাজ করছে, সেটি দূর করতে নতুন ধরনের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রয়োজন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই প্রার্থীদের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জনসেবা মান উন্নত হবে এবং দেশের সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার ও সুযোগের জন্য স্বচ্ছভাবে অংশ নিতে পারবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত