বাবর আজমের অবাক করা ‘লজ্জাজনক’ রেকর্ড

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৯ বার
বাবর আজমের অবাক করা ‘লজ্জাজনক’ রেকর্ড

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাকিস্তানের ব্যাটিং তারকা বাবর আজম প্রায় ১০ মাস পর আবার টি–টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার ফেরাটা ছিল সমালোচক এবং ভক্তদের উভয়ের জন্যই আকর্ষণীয়। বাবর ফিরে আসার পর নিয়মিতভাবে রেকর্ড গড়ছেন তিনি, তবে কিছু রেকর্ড আছে, যা হয়তো বাবর নিজেও দেখতে পেলে লজ্জিত হবেন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় টি–টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে বাবরের একরকম বিব্রতকর মুহূর্তের সাক্ষী হয় ক্রিকেটপ্রেমীরা।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাকিস্তানের এই ম্যাচে বাবর মাত্র দুই বল খেলেছেন, কিন্তু কোনো রান তুলতে পারেননি। দুশমন্ত চামিরার বল হাতে এলবিডব্লিউ হয়ে যাওয়ায় বাবরের ক্যারিয়ারের আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে দশম ‘ডাক’ রেকর্ড স্থাপিত হলো। এই রেকর্ডের মাধ্যমে পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শূন্য রানে আউট হওয়া তালিকায় বাবরের নাম উঠে এসেছে সাইম আইয়ুব এবং উমর আকমলের সঙ্গে যৌথভাবে। ১৩৫ ম্যাচে ১২৮ ইনিংসে ব্যাট করা বাবরের জন্য এটি একরকম লজ্জার মুহূর্ত, যা ক্রিকেটের মাঠে রেকর্ড হয়ে থাকছে।

তথ্য অনুযায়ী, বাবর প্রতি ১২.৮ ইনিংসে একবার শূন্য রানে আউট হন। তুলনায় সাইম আইয়ুব ৫৩ ইনিংসে এবং উমর আকমল ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৭৯ ইনিংসে ১০ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন। শহিদ আফ্রিদির শূন্য রানের সংখ্যা আট এবং ৭ বার করে শূন্য রানে আউট হয়েছেন কামরান আকমল, মোহাম্মদ হাফিজ ও মোহাম্মদ নাওয়াজ। এই তালিকা দেখলে বোঝা যায়, বাবরের নাম এখন এক ধরনের বিব্রতকর রেকর্ডে শীর্ষে রয়েছে, যা ক্রিকেটের ইতিহাসে হয়তো অনন্য।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে পাকিস্তান দলের জন্য আরও একটি রেকর্ডও গড়ে গেছে। পাকিস্তান এই সিরিজে এক বছরে সর্বাধিক ৫৫ টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড স্থাপন করেছে। এটি দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনোযোগ সবসময় বাবরের ব্যাটিংয়ে থাকে, এবং এই রেকর্ড যে ব্যাটারের জন্য প্রেরণাদায়ক না হয়ে বিব্রতকর হতে পারে, তা স্পষ্ট।

এই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শনিবার পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হবে। সিরিজের তৃতীয় দল জিম্বাবুয়ে ইতিমধ্যেই লিগ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে। উল্লেখযোগ্য, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচেও বাবর একবার শূন্য রানে আউট হয়েছেন। এর ফলে এই সিরিজে বাবরের শূন্য রানে আউট হওয়ার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুইবার।

ক্রিকেটবিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাবরের জন্য এই ধরনের রেকর্ড শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং তাকে আরও শক্তিশালী ও মনোযোগী হওয়ার প্রেরণা যোগাবে। বাবরের ব্যাটিং ক্ষমতা এবং নেতৃত্বে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে এমন শূন্য রানের ঘটনা, বিশেষ করে তারকা ব্যাটারের জন্য, ফ্যান ও সাংবাদিকদের মধ্যে বিস্ময় ও আলোচনা তৈরির বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

বাবর আজমের এই শূন্য রানে আউটের রেকর্ড ক্রিকেটে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একদিকে তার আগের অসাধারণ ব্যাটিং রেকর্ড এবং ফ্যানদের অগাধ স্নেহ, অন্যদিকে সাম্প্রতিক কিছু ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়ে যাওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখেছেন, বাবা আজম যতটা নির্ভরযোগ্য ব্যাটার, তার জীবনে কিছু মুহূর্তে তিনি হতাশাজনকভাবে শূন্য রানে আউট হন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাবরের এই রেকর্ড এবং ফাইনাল ম্যাচের দিকে এগোনোর বিষয়টি ক্রিকেটে উত্তেজনা তৈরি করবে। প্রতিটি ক্রিকেট ম্যাচে ব্যাটারের মানসিক প্রস্তুতি ও ফোকাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাবরের জন্য এটি একটি শিক্ষা—যে কোনো ব্যাটারের জীবনে কখনও কখনও শূন্য রানে আউট হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু তার আসল যোগ্যতা ও ক্যারিয়ার তা অক্ষুণ্ণ রাখে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের পর পাকিস্তানের দলকে নতুন উদ্যম ও পরিকল্পনার সঙ্গে ফাইনালে নামতে হবে। বাবর আজমের উপস্থিতি ও তার ব্যাটিং দক্ষতা যে দলকে শক্তিশালী করবে, তা নিঃসন্দেহে। এই সিরিজের ফাইনাল শুধু একটি ট্রফি নয়, বরং বাবর আজমের ক্যারিয়ার এবং পাকিস্তান দলের মানসিক প্রস্তুতির এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হবে।

এর মধ্য দিয়ে বাবর আজমের শূন্য রানে আউটের রেকর্ড একদিকে লজ্জাজনক মনে হলেও, ক্রিকেটের মাঠে এটি তার অধ্যবসায় ও প্রতিক্রিয়াশীলতার একটি অংশ হিসেবেই দেখা যেতে পারে। যেমনটি তিনি আগে দেখিয়েছেন, কঠিন সময়ে নিজেকে প্রস্তুত করে আবার মাঠে ফিরে শক্তিশালীভাবে খেলেন। এই সিরিজের ফাইনাল এবং ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোতে বাবরের পারফরম্যান্স ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য চমকপ্রদ এবং উত্তেজনাপূর্ণ হতেই চলেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত