খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে হাসনাত-জারা-নাসীর

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫১ বার
খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে হাসনাত-জারা-নাসীর

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলার সিসিইউ ইউনিটে কয়েকদিন ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনীতির বিভিন্ন অঙ্গনের নেতা ছাড়াও সামাজিক ও পেশাজীবী মহলের প্রতিনিধিরা হাসপাতালমুখী হচ্ছেন। শনিবার সকালে সেখানে উপস্থিত হন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তিন শীর্ষ নেতা—ডা. তাসনিম জারা, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁদের আগমন ঘিরে হাসপাতালে কিছুটা ব্যস্ততা তৈরি হয়, তবে দলটির নেতারা গণমাধ্যমের সামনে সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ হাসপাতালে পৌঁছান। হাসপাতালের ভেতরে অবস্থানরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা বেগম জিয়ার শারীরিক সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এনসিপি নেতারা জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে তাঁরা হাসপাতালে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং প্রয়োজনে যেকোনো সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতিও রাখছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছেন। সর্বশেষ ফুসফুসে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৩ নভেম্বর তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার তাঁর অবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় চিকিৎসক দল তাঁকে সিসিইউতে স্থানান্তর করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে তাঁরা উন্নত চিকিৎসার সবধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন, তবে তাঁর বয়স ও আগের শারীরিক জটিলতাগুলোর কারণে চিকিৎসা প্রক্রিয়া আরও সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হচ্ছে।

এভারকেয়ার হাসপাতালের ভেতরের পরিবেশও গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে সরব হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে সেখানে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালেই প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে সেখানে পৌঁছেন সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। তাঁরা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বেগম জিয়ার চিকিৎসা দল প্রতিদিনই তাঁর শারীরিক অবস্থার সামান্য অগ্রগতি বা অবনতি—সবই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাঁকে দেওয়া হচ্ছে আধুনিক শ্বাসযন্ত্র সহায়ক চিকিৎসা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ওষুধ। তবে শারীরিক অবস্থার ওঠানামার কারণে চিকিৎসকেরা কোনো স্থিতিশীল পূর্বাভাস দিতে পারছেন না।

এদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকেও দলের চেয়ারপারসনের চিকিৎসা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার জন্য কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা নিয়মিত হাসপাতালে পরিবার-চিকিৎসক দলের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করছেন, দীর্ঘদিন ধরে বেগম জিয়ার চিকিৎসা যথাযথভাবে দেশে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তাঁকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

হাসপাতালের বাইরে প্রতিদিনই বিএনপি সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন এবং উদ্বেগের কথাও প্রকাশ করছেন। রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়েও খালেদা জিয়ার অসুস্থতা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে মানবিক অনুভূতি জাগিয়েছে। দলমত-নির্বিশেষে বহু মানুষ তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।

এনসিপি নেতাদের এই হাসপাতালে আগমন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাঁরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে নতুন ধরণের যোগাযোগ ও সমন্বয়ের আভাস দেখা যাচ্ছে—এ ঘটনাটি তারই একটি অংশ হতে পারে। যদিও এনসিপি নেতারা তাঁদের এই সফরকে সম্পূর্ণ মানবিক ও সহমর্মিতার প্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনাও পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। দেশজুড়ে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও অসুস্থ নেত্রীর প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জায়গায় একটি অভিন্ন মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে কিছুটা ভিন্ন।

সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি এখন এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউ ইউনিটের দিকে। চিকিৎসক দল সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যরা প্রার্থনায় সময় কাটাচ্ছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনেও অপেক্ষা—সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল হওয়া ও তাঁর চিকিৎসা আরও উন্নত হওয়া নিয়ে।

দলের নেতারা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন এবং দেশের রাজনীতি তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে আবারও দিকনির্দেশনা পেতে পারে। স্বাস্থ্যগত অনিশ্চয়তার এই মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও কিছুটা স্থবিরতার দিকে গেছে, যা খালেদা জিয়ার সুস্থতার সঙ্গে আবার নতুন গতিপ্রাপ্ত হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত