প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তারকাখ্যাতির শীর্ষ চূড়ায় অবস্থান করা শাকিব খান ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সাম্প্রতিক সময়ের নানা গুঞ্জন এবং বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন ঈদুল আজহার জন্য নির্মিত একটি নতুন সিনেমায় তিনি নিয়েছেন তিন কোটি টাকা পারিশ্রমিক। যদিও নির্মাতা এ তথ্য অস্বীকার করেছেন, তবুও শাকিব ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র এই তথ্যকে সত্য বলে দাবি করছে।
ঢাকাই চলচ্চিত্রে দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ার পেরিয়ে শাকিব খান নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১৯৯৯ সালে সোহানুর রহমান সোহানের পরিচালনায় ‘অনন্ত ভালোবাসা’ ছবির মাধ্যমে তার রূপালি পর্দায় অভিষেক। এরপর একের পর এক হিট সিনেমা দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ঢালিউডের একমাত্র নির্ভরতার নাম।
শাকিব খানের ক্যারিয়ারে নতুন মাইলফলক রচনা করে ‘প্রিয়তমা’ চলচ্চিত্র, যা দেশের বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য পায়। এরপর ‘রাজকুমার’, ‘তুফান’, ‘বরবাদ’ এবং ‘তাণ্ডব’- প্রতিটি ছবিই বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছে। এই ধারাবাহিকতার ফলেই সম্ভবত তার পারিশ্রমিকের চাহিদাও এখন একেবারে অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, শাকিব খান তার আসন্ন ঈদের সিনেমার জন্য পারিশ্রমিক হিসেবে নিয়েছেন তিন কোটি টাকা। ছবিটির নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ অবশ্য এই দাবিকে সরাসরি ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন। তবে একইসঙ্গে তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় কিছুটা কৌশলী হয়ে ওঠেন, এবং সরাসরি অস্বীকার কিংবা স্বীকৃতি কোনোটাই দেননি।
এই অবস্থায় শাকিব খানের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সিনেমাটির জন্য দুই কোটি টাকা সাইনিং মানি ইতোমধ্যে হাতে পেয়েছেন শাকিব খান। বাকি এক কোটি টাকা তাকে ব্যাংক ট্রান্সফার অথবা নগদ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সূত্রটির দাবি, নির্মাতার ‘গুজব’ মন্তব্য মূলত কৌশলগত কারণেই দেওয়া হয়েছে, কারণ উচ্চ পারিশ্রমিকের বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানানো তাদের পরিকল্পনায় নেই।
এই সিনেমা নিয়ে আলোচনার মধ্যে আরেকটি খবর উঠে এসেছে, যেখানে বলা হচ্ছে—পরিচালক মেহেদী হাসানের একটি নতুন সিনেমায় শাকিব খান কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পারিশ্রমিক বেশি হওয়ার কারণে প্রযোজক শাহরিন আক্তার শেষমেশ সেই সিনেমা থেকে পিছিয়ে আসেন। তবে শাহরিন আক্তার এই তথ্য অস্বীকার করে বলেছেন, পারিশ্রমিক নয়, অন্যান্য বিবেচনায় সিনেমাটি আপাতত স্থগিত রয়েছে।
তবে শাকিব খানের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, এই মুহূর্তে শাকিব খানকে ঘিরে সিনেমার নির্মাতাদের আগ্রহ আকাশচুম্বী। দুই ঈদকে ঘিরে প্রতি বছরই অনেক সিনেমার প্রস্তাব আসে তার কাছে। প্রযোজকরা জানেন, ঈদের বক্স অফিসে শাকিব খান মানেই একটি নিশ্চিত বিজয়। ফলে পারিশ্রমিক যতোই হোক না কেন, বিনিয়োগকারীরা তাকে নিতে আগ্রহী।
ঈদের জন্য নির্মাণাধীন এই ছবিটির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন মেজবাহ উদ্দিন সুমন, যার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন জনপ্রিয় লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। সিনেমাটির পরিচালনায় রয়েছেন নবাগত পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ। এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, “বাংলাদেশের প্রতিটি পরিচালকের স্বপ্ন থাকে শাকিব খানকে নিয়ে কাজ করার। আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি যে আমার প্রথম চলচ্চিত্রেই তাকে নিয়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই যেন আমি সুন্দরভাবে কাজটি শেষ করতে পারি।”
শাকিব খানের সাম্প্রতিক ক্যারিয়ার গ্রাফ বলছে, তিনি শুধু একজন তারকা নন, বরং একক একটি ইন্ডাস্ট্রিতে রূপ নিয়েছেন। তার সিনেমা মানেই বিপণন, আলোচনা, এবং সর্বোপরি বক্স অফিসে সাফল্য। তিন কোটি টাকার পারিশ্রমিক যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে সেটি শুধু নতুন একটি রেকর্ড নয়, বরং ঢাকাই চলচ্চিত্রে তার অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানকে আরও একবার প্রমাণ করে।
তবে এটি ঠিক যে, শাকিব খানের মতো তারকাদের কাছে উচ্চ পারিশ্রমিক দাবি কোনো অস্বাভাবিক কিছু নয়। এমনকি হলিউড বা বলিউডেও দেখা যায় জনপ্রিয় তারকারা সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের পারিশ্রমিক বাড়িয়ে থাকেন। প্রশ্ন একটাই—শাকিব কি তার এই মূল্য আদায় করে দিতে পারছেন? বক্স অফিস এবং দর্শকের সাড়া বলছে, আপাতত উত্তর—হ্যাঁ।