প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জুলাই বিপ্লবের অন্যতম মহানায়ক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির শেষ বিদায়ে অংশ নিতে রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এখন এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। আজ দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিতব্য এই জানাজাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের ঢল নামতে শুরু করেছে। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকেও হাজার হাজার মানুষ বাস, ট্রাক এবং ট্রেনযোগে রাজধানীতে ছুটে এসেছেন। শহীদ হাদির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে আসা এই বিক্ষুব্ধ ও শোকাতুর জনতার মুখে এখন কেবলই বিচার এবং বিপ্লবের স্লোগান। গোটা এলাকা এখন ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’ এবং ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে।

জানাজাস্থলে আগত মানুষের এই দীর্ঘ মিছিলে যেমন রয়েছে শোকের আবহ, তেমনি রয়েছে খুনিদের প্রতি তীব্র ঘৃণা। রাজপথে জমায়েত হওয়া জনতাকে ‘হাদির খুনিদের ঠাঁই, এই বাংলায় হবে না’ এবং ‘একটা একটা লীগ ধর, ধরে ধরে জেলে ভর’—এমন সব রণধ্বনি দিতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া জানাজার জন্য অপেক্ষমাণ জনতার একাংশ ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ এবং ‘আল কুরআনের আলো, সংসদে জ্বালো’ স্লোগান দিয়ে সংসদ ভবন এলাকা প্রকম্পিত করে তুলেছেন। শোকাতুর অনেক মানুষ তাদের বুকে ও হাতে কালো ব্যাচ ধারণ করেছেন, আবার অনেককে দেখা গেছে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে শহীদ হাদির দেশপ্রেমের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে।
নিরাপত্তার স্বার্থে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের প্রতিটি প্রবেশপথে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিজিবি, সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ নিরাপত্তা দল প্রতিটি মানুষকে সুশৃঙ্খলভাবে জানাজাস্থলে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। সন্দেহভাজন কাউকে মনে হলে তল্লাশি করার পরেই ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। মানুষের এই প্রবল স্রোত সামলাতে ট্রাফিক ব্যবস্থায় বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং জানাজাস্থলের চারপাশে বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। মানুষের উপস্থিতিতে সংসদ ভবনের চারপাশের রাস্তাগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
শহীদ হাদির এই জানাজায় কেবল তরুণ সমাজ নয়, বরং অংশ নিয়েছেন বিপুল সংখ্যক নারী, বৃদ্ধ এবং বাবার হাত ধরে আসা ছোট ছোট শিশুরাও। সর্বস্তরের মানুষের এই অভূতপূর্ব উপস্থিতি প্রমাণ করছে যে, আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে হাদির অবদান সাধারণ মানুষের মনে কতটা গভীর রেখাপাত করেছে। শোকের মাতম আর স্লোগানের সংমিশ্রণে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ যেন আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাফন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মানুষের ঢল কমার কোনো লক্ষণ নেই বলেই মনে করছেন উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা।