গাজায় আর দুর্ভিক্ষ নেই, ঘোষণা ক্ষুধা পর্যবেক্ষক সংস্থার

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১২৫ বার
গাজায় আর দুর্ভিক্ষ নেই

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি পরিকল্পনা এবং মানবিক ত্রাণের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় এখন আর ‘দুর্ভিক্ষ’ নেই বলে ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ-সমর্থিত বিশ্ব ক্ষুধা পর্যবেক্ষক সংস্থা। গতকাল শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য জানায় ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, গত অক্টোবর মাসে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই গাজায় মানবিক ও বাণিজ্যিক খাদ্য সরবরাহের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যার ফলে গত কয়েক মাস ধরে চলতে থাকা চরম খাদ্য সংকটের অবসান ঘটেছে।

আজ শনিবার সকালে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে আইপিসি-র এই বিবৃতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় বর্তমানে সংঘাতের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসায় এবং সীমান্ত পথগুলো দিয়ে নিয়মিত ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি পাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। আইপিসি তাদের পর্যালোচনায় জানিয়েছে, “মানবিক ও বাণিজ্যিক খাদ্য সরবরাহের যথেষ্ট যোগান থাকায় গাজার কোনো এলাকাতেই এখন আর দুর্ভিক্ষের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি বিদ্যমান নেই।” এর আগে গত আগস্টে একই সংস্থা সতর্ক করেছিল যে, গাজার উত্তর ও মধ্যাংশের বিশাল জনগোষ্ঠী ‘মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষের’ কবলে পড়তে যাচ্ছে।

তবে এই উন্নতির ঘোষণা দিলেও গাজার ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। আইপিসি-র পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দুর্ভিক্ষের তকমা ঘুচলেও গাজার অধিকাংশ মানুষ এখনো ‘তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার’ মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। বর্তমানে যে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাচ্ছে, তা কেবল মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক চাহিদা পূরণ করছে মাত্র।

সংস্থাটি কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে যে, যদি আবারও পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু হয় কিংবা মানবিক ও বাণিজ্যিক প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে উত্তর গাজা, খান ইউনিস এবং দেইর আল-বালাহ অঞ্চলে পুনরায় দুর্ভিক্ষ ফিরে আসার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে, গাজায় ত্রাণ বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসরাইলি সংস্থা ‘কোগাট’ (COGAT) জানিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করছে। যার মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ট্রাকেই রয়েছে অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যসামগ্রী। ইসরাইল বরাবরই গাজায় কৃত্রিম দুর্ভিক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল; তবে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এবং শান্তি চুক্তির আওতায় ত্রাণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গাজার সাধারণ মানুষ এখন এই খাদ্য সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার এবং স্থায়ী শান্তির দাবি জানাচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কখনোই তাদের দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে না হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com