প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) মো. সুজন মিয়া (৩৬) নামে এক কারাবন্দীর মৃত্যু ঘটেছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুপুর ১২:২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত কারাবন্দীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।
মো. সুজন মিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনার পেছনে নির্দিষ্ট কারণ হাসপাতালের পক্ষ থেকে বা কারা কর্তৃপক্ষ থেকে এখনও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। কারারক্ষী আল মামুনসহ অন্যান্য কারারক্ষীরা জানান, বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। তারা বলেন, মো. সুজনকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং সেখানে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহত কারাবন্দী কোন মামলায় কারাগারে ছিলেন, তা তৎক্ষণাৎ জানানো সম্ভব হয়নি।
মৃতের পরিবার জানায়, সুজন মিয়ার পিতা সালামত মিয়া মৃত্যুর খবর শুনে অত্যন্ত শোকাহত। পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, তিনি শেষ পর্যন্ত তার ছেলে সুজনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারছেননি এবং হাসপাতালে এসে শেষ মুহূর্তেও তার সঙ্গে দেখা হয়নি। পরিবার ও আইনজীবীরা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাবন্দীর মৃত্যু নতুন করে নিরাপত্তা ও কারাবন্দী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রশ্ন তোলেছে। কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় হাসপাতালে আনা হলেও চিকিৎসা ও তত্ত্বাবধান যথাযথভাবে করা হয়েছে কিনা, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করতে পারে। পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের উপর নির্ভর করছেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাড়ি সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করার সময় সর্বাধিক সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। তবে মৃত্যুর পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করতে ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং কারাগার থেকে প্রাপ্ত চিকিৎসা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মৃত্যুর ঘটনায় কারাবন্দী স্বাস্থ্য, কারাগার তত্ত্বাবধান এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে কারাবন্দীদের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সুবিধার মান, চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যকারিতা এবং তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
এই ঘটনায় পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ তদন্তের পাশাপাশি পরিবারকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং কারাবন্দীদের মানবিক ও স্বাস্থ্যসেবার অধিকারের প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মো. সুজন মিয়ার মৃত্যু শুধু তার পরিবার নয়, বরং কারাবন্দী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিরও সংকেত দিয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রকাশিত হলে কারাবন্দী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক তত্ত্বাবধান এবং কারাগার প্রশাসনের দায়িত্বশীলতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে দেশের কেন্দ্রীয় কারাগার ব্যবস্থায় কারাবন্দীর স্বাস্থ্যসেবা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্ব নতুন করে প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে এই মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও হাসপাতাল প্রশাসনকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা এড়ানো যায়।