তারেক রহমানের সংবর্ধনায় পতাকা বিক্রিতে উন্মাদনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৯ বার
তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন ও সংবর্ধনা ঘিরে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকা এখন প্রতিটি মুহূর্তেই ব্যস্ত। জাতীয় পতাকা এবং বিএনপির দলীয় পতাকা কিনতে সকাল থেকেই ভিড় করছে দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ। সংবর্ধনার উত্তেজনা ও উৎসাহ এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, স্থানীয় বিক্রেতাদের মতে, পতাকার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

পতাকা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সাইজের জাতীয় ও দলীয় পতাকা এখন ৪০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মাথায় বাধার জন্য ব্যবহৃত ছোট পতাকা ১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, আগামীকালের মূল অনুষ্ঠানের দিন এই চাহিদা আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশাবাদী।

সংবর্ধনাস্থলে শুধু দলীয় নেতাকর্মীরাই নয়, সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। বাবার সঙ্গে সংবর্ধনাস্থলে আসা আঁখি নামের এক তরুণী বলেন, তিনি তারেক রহমানকে আগে কখনো দেখেননি, তবে বাবার কাছ থেকে তার নাম শুনেছেন। তিনি জানান, “একনজর দেখার জন্য বাবার সঙ্গে এসেছি। আজ ঘুরে গেলাম, কালকে আবার আসব।”

২০০৮ সালে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে চলে যান তারেক রহমান। এরপর থেকে দেশে তার আগমন সম্ভব হয়নি। যদিও স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান কয়েকবার দেশে আসেন, কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজে দীর্ঘ ১৭ বছর পর আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন। এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

সংবর্ধনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। পতাকা বিক্রেতারা সকাল থেকেই ক্রেতাদের সঙ্গে হাতেনাতে লেনদেন করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, প্রধান অনুষ্ঠান শুরুর আগে এই বিক্রির ধুম আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয়রা বলছেন, সাধারণ মানুষ ও দলীয় সমর্থকদের মধ্যে এটি এক ধরনের ঐক্যবদ্ধ উদ্দীপনার প্রতিফলন।

সংবর্ধনার উৎসবমুখর পরিবেশে ছোটবড় সকলে সরব। স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানান, এই ধরনের রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের আগে শহরে পতাকা বিক্রির চাহিদা হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পায়। আগামীকালের সংবর্ধনায় লাখ লাখ নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে পতাকার বিক্রি এবং রাজনৈতিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ আরও তীব্র হবে।

রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকা ইতোমধ্যেই সংবর্ধনার প্রস্তুতিতে পূর্ণ, যেখানে বিভিন্ন স্থানে পতাকা, ব্যানার এবং নির্বাচনী সাজসজ্জা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় বিক্রেতারা বলছেন, এই সংবর্ধনা শুধু দলের জন্যই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ অনুভূতির প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। তারা আশা করছেন, মূল অনুষ্ঠানের দিনে দেশের অন্যান্য এলাকা থেকেও মানুষ ঢাকায় সমাগম করবে এবং পতাকার চাহিদা তীব্র বৃদ্ধি পাবে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও উৎসাহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রতিফলিত হচ্ছে। পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতরা একত্রিত হয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। সামাজিক এবং রাজনৈতিক সংযোগ এই সময় আরও দৃঢ় হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, পতাকার বিক্রি শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি রাজনৈতিক উদ্দীপনার একটি প্রতীক হিসেবে কাজ করছে।

সংবর্ধনা ও পতাকা বিক্রির এই ধুম মূলত তারেক রহমানের দীর্ঘ সময়ের নির্বাসনের পর দেশে প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে জড়িত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে আসছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যেই আগের দিন এলাকা ঘুরে দেখে সংবর্ধনা ও পতাকা কেনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রাজধানীর পূর্বাচল, বিশেষ করে সংবর্ধনাস্থল ও আশপাশের এলাকার বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডও এই অনুষ্ঠানের কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক উচ্ছ্বাসের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তারা প্রস্তুত আছেন। এই ধরনের প্রাক-সংবর্ধনা ক্রমশ একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক মিলনের আকার নিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনে উদ্দীপনার ছোঁয়া এনেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত