প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর ঐতিহাসিক জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মুসল্লিরা এই জামাতে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীও সেখানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার (২৫ মে) জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। মুসল্লিদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে নামাজ আদায়ের জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম জানান, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মাঠের প্রতিটি অংশে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করুন। এজন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশ ও প্রস্থান ব্যবস্থাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য চারটি পৃথক গেট রাখা হয়েছে এবং বের হওয়ার জন্য মোট সাতটি প্রস্থান পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে করে জামাত শেষে একসঙ্গে ভিড়ের চাপ কমে আসবে এবং মুসল্লিরা সহজে বের হতে পারবেন।
মাঠের অভ্যন্তরে নামাজ আদায়ের জন্য ১২১টি কাতার প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি মুসল্লিদের অজুর সুবিধার্থে পাশেই অজুখানা স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ১৪০ জন অজু করতে পারবেন। এ ছাড়া নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং প্রবেশ ও প্রস্থান পথ আলাদা করা হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, মুসল্লিদের আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঈদগাহ ময়দানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ফ্যান ও আলো স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ টয়লেট, সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। কোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন থাকবে।
তিনি বলেন, “আমরা প্রতিবারের মতো এবারও চেষ্টা করেছি যাতে ঈদের বড় জামাতটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।”
এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়েও বিকল্প পরিকল্পনার কথা জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, যদি আবহাওয়া প্রতিকূল হয়, তবে জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে স্থানান্তর করা হবে। এই সিদ্ধান্ত মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে।
ঈদগাহ পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, নিরাপত্তা সংস্থা ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা মাঠের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত দিকগুলো ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেন।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের দিন জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে এবং গোটা এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হবে। সন্দেহজনক যেকোনো পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলার জন্য বিশেষ ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।
রাজধানীর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায়ের প্রতি আলাদা আগ্রহ থাকে। প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই জামাতে অংশ নিতে আসেন। তাই এবারের প্রস্তুতিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়রা মনে করছেন, জাতীয় ঈদগাহে সুষ্ঠু ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এটি শুধু ধর্মীয় অনুশীলন নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতিরও এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠবে। ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়, তা জাতীয় জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সব মিলিয়ে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আসন্ন ঈদুল আজহার প্রধান জামাতকে ঘিরে প্রশাসনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। এখন শুধু ঈদের দিনের অপেক্ষা, যখন লাখো মুসল্লি একসঙ্গে আল্লাহর দরবারে সিজদায় অবনত হবেন শান্তি, ক্ষমা ও কল্যাণের প্রার্থনায়।