তানজানিয়ায় ২৮তম জন্মদিনে মালালার বার্তা: ‘শ্রেণিকক্ষ এখনো আমার আশ্রয়স্থল’

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৩ বার
তানজানিয়ায় ২৮তম জন্মদিনে মালালার বার্তা: ‘শ্রেণিকক্ষ এখনো আমার আশ্রয়স্থল’

প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী পাকিস্তানি মানবাধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই তাঁর ২৮তম জন্মদিন কাটাচ্ছেন আফ্রিকার তানজানিয়ায়, মেয়েদের শিক্ষার অধিকার রক্ষায় লড়াই করে যাওয়া কিশোরীদের পাশে দাঁড়িয়ে। জন্মদিনের দিনটি তিনি উৎসর্গ করেছেন সেইসব মেয়েদের জন্য, যারা নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মাঝেও পড়াশোনায় ফিরে আসার সাহস দেখাচ্ছে।

এটি মালালার তানজানিয়ায় প্রথম সফর হলেও এই সফর নিছক আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। বরং এটি ছিল মাঠপর্যায়ে শিক্ষার অগ্রগতি ও সংকট বুঝে ওঠার একটি আন্তরিক এবং মননশীল প্রয়াস। তিনি বৈঠক করেছেন স্থানীয় শিক্ষা সংগঠক ও মালালা ফান্ডের অংশীদারদের সঙ্গে। এসব আলোচনায় উঠে এসেছে— কীভাবে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা তানজানিয়ার মেয়েদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে এবং কোথায় এখনো সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।

জিও নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালালা ফান্ড পূর্ব আফ্রিকায় মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসারে যে প্রতিশ্রুতি নিয়েছে, এই সফর ছিল তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়নধর্মী ধাপ। সফরের অংশ হিসেবে মালালা গেছেন এমন একটি স্কুলে, যেখানে কিশোরী মায়েরা বিশেষ সহায়তামূলক কর্মসূচির আওতায় আবার স্কুলে ফিরেছে। ওই স্কুলটি পরিচালিত হচ্ছে এমন একটি উদ্যোগের মাধ্যমে, যেটি ২০২২ সাল থেকে মালালা ফান্ডের সহায়তা পাচ্ছে।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে মালালা লিখেছেন, “পাকিস্তানে বড় হওয়ার সময় শ্রেণিকক্ষ ছিল আমার প্রিয় জায়গা। শিক্ষা আমাকে আশা দিয়েছিল। যখন সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তখন আমার বন্ধুরা ও আমি তা ফিরে পেতে আওয়াজ তুলেছিলাম। আজ আমি শ্রেণিকক্ষে তানজানিয়ার মেয়েদের সঙ্গে ছিলাম, যারা আমাকে সেই স্কুল জীবনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে এবং কেন এই লড়াই এখনো গুরুত্বপূর্ণ, তা মনে করিয়ে দিয়েছে।”

তিনি আরও জানান, তানজানিয়ার সমাজে নারীর অবস্থান নিয়ে এখনো উদ্বেগজনক চিত্র রয়েছে। প্রতি পাঁচজন কিশোরীর মধ্যে দুইজন ১৮ বছর হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায় এবং প্রতি চার জনে একজন ১৯ বছর হওয়ার আগেই মা হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতায়, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া মেয়েদের পুনরায় শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মালালা ফান্ডের সহায়তাপ্রাপ্ত ওই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ৪০০-এর বেশি কিশোরী মায়েকে স্কুলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখানে শুধু পড়াশোনার সুযোগই নয়, মেয়েদের জন্য পরামর্শসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং শিক্ষাসামগ্রীও সরবরাহ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার কাজও চলছে সমানতালে।

এই কর্মসূচি এবং সফর সম্পর্কে মালালা বলেন, “স্কুল পরিদর্শন করা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলা এবং শিক্ষা বিস্তারে কাজ করা কমিউনিটি নেতাদের কাছ থেকে শেখা আমার জন্য এক বিশাল সম্মানের বিষয়। এই মেয়েরা শুধু শিক্ষার্থী নয়—এরা প্রত্যাবর্তনের প্রতীক, সাহসের গল্প, এবং আমাদের ভবিষ্যতের নির্মাতা।”

তানজানিয়ায় মালালার উপস্থিতি কেবল একজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সফর হিসেবে নয়, বরং এটি একটি বার্তা—শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার, যা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের প্রাপ্য। তার জন্মদিনের এই অনন্য আয়োজন তাই বিশ্বজুড়ে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে ঘটা করে কেক কাটার বদলে শ্রেণিকক্ষে মেয়েদের পাশে বসে তারা যেন নতুন করে শিক্ষা এবং স্বপ্নের দিকে তাকিয়ে দেখতে পারে—সেই পরিবেশই তৈরি করেছেন মালালা ইউসুফজাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত