মিয়ানমারের সংঘাত থেকে পালিয়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিল পাঁচ শতাধিক শরণার্থী

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৩ বার

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা আর অব্যাহত গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত মিয়ানমারের নিরাপত্তাহীন পরিবেশ থেকে বাঁচতে একসঙ্গে পাঁচ শতাধিক বেসামরিক মানুষ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। থাই সেনাবাহিনী ও স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শনিবার রাতের দিকে মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলীয় কায়িন রাজ্যে সেনা ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলার পরই এই শরণার্থীর ঢল নামে।

থাই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি বা কেএনএলএ হঠাৎ করে কায়িন রাজ্যের জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালায়। এতে মিয়ানমারের প্রায় এক শতাধিক সরকারি সেনা আর অন্তত ৪৬৭ জন সাধারণ মানুষ জীবন বাঁচাতে সীমান্ত অতিক্রম করে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করে। সীমান্তে প্রবেশের পর থাই সেনা ও পুলিশ তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দিতে শুরু করে।

কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির রাজনৈতিক শাখার নেতা স থামাইন তুন জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের যৌথ বাহিনী কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে। তাঁর দাবি, কিছু জান্তা সেনা আত্মসমর্পণ করে কেএনএলএ-তে যোগ দিয়েছে, আবার অনেকে সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়েছে। এই লড়াই মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জান্তার সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতিরোধ আরও সুসংগঠিত হচ্ছে।

মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া গৃহযুদ্ধে সরকারি বাহিনী ও স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত সংঘর্ষ চলছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইতোমধ্যেই প্রায় ৮১ হাজার মিয়ানমার নাগরিক শরণার্থী হিসেবে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছে। নতুন করে শরণার্থীর ঢল থাই সরকারের জন্যও নতুন মানবিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মধ্য মিয়ানমারের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শনিবার এক বিমান হামলায় অন্তত ২০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কারেন জনগণ আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৪৯ সাল থেকে এই লড়াই থামেনি। কেএনএলএ এবং তাদের মিত্ররা দাবি করছে, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় আর স্বশাসনের স্বপ্নই তাদের লড়াইয়ের প্রেরণা।

মিয়ানমারের ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত কেবল দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। থাইল্যান্ড সীমান্তে শরণার্থীর চাপ, মানবিক সংকট এবং ক্রমবর্ধমান সহিংসতা কীভাবে মোকাবিলা করবে—সে প্রশ্ন এখন সময়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত