প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে স্বাস্থ্য সচেতনতার এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা কোডি ক্রোন। বয়স ৫৪ হলেও শারীরিক সুস্থতা ও ফিটনেসের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে তিনি শরণাপন্ন হন চ্যাটজিপিটির। আর এআই নির্ভর সেই পরিকল্পনার অনুসরণ করেই মাত্র ৪৬ দিনে নিজের ওজন কমিয়েছেন ১১ কেজি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, কোডি ক্রোন তার অতিরিক্ত ওজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চিন্তিত ছিলেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে জীবনের ব্যস্ত রুটিনে নিজেকে সময় দেওয়া তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছিল। কিন্তু স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি মাথায় রেখে অবশেষে তিনি ভরসা করেন চ্যাটজিপিটির ওপর।
চ্যাটজিপিটি তাকে শুধু একটি সাধারণ খাদ্যতালিকা দেয়নি— বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনযাত্রার রূপরেখা তৈরি করে দেয়। কখন ঘুমাতে যাবেন, কখন উঠবেন, কখন খাবেন, কোন ধরণের শরীরচর্চা করবেন— সবকিছু নির্দিষ্ট করে দেয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
নতুন এই লাইফস্টাইল অনুসরণ করে কোডি প্রতিদিন ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে ঘুম থেকে উঠতেন। এরপর ভোর ৬টা থেকে শুরু করতেন শরীরচর্চা— সপ্তাহে ছয় দিন নিয়ম করে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় দিতেন জিমে। দিনে দু’বার ভারী খাবার খেতেন এবং খাবারের মাঝখানে কিছু না খাওয়ার নিয়মে অটল থাকতেন।
প্রতিদিন চার লিটার পানি খাওয়ার পাশাপাশি সন্ধ্যা ৬টার পর পানি পান বন্ধ করতেন তিনি। স্ক্রিন টাইম সীমিত করতে প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন ও ল্যাপটপ সরিয়ে রাখতেন, যাতে ঘুমে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।
এই কঠোর নিয়ম মেনে ৪৬ দিন পর ওজন মাপেন কোডি। যেখান থেকে দেখা যায়— ৯৫ কেজি থেকে তার ওজন নেমে এসেছে ৮৪ কেজিতে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটজিপিটির তৈরি ছক মেনেই এই সাফল্য এসেছে বলে জানান তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই প্রযুক্তি যে এখন শুধুমাত্র তথ্য খোঁজা বা প্রশ্নোত্তরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারছে, কোডির অভিজ্ঞতা তারই একটি বাস্তব উদাহরণ। এটি দেখিয়ে দেয়, প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে তা শরীর ও মনের সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোডির এই রূপান্তর ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। বহু মানুষ অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের লাইফস্টাইল পরিবর্তনে চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিতে শুরু করেছেন।
এই ঘটনার পর কোডি ক্রোন এখন কেবল একজন স্বাস্থ্য সচেতন মানুষই নন, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর স্বাস্থ্য পরিবর্তনের একটি জীবন্ত উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন।