প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
পাকিস্তানের শোবিজ অঙ্গন যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায়। করাচির একটি আবাসিক ভবনের একটি বন্ধ কক্ষ থেকে পাওয়া গেছে অভিনেত্রী হুমাইরা আসগরের পচাগলা মরদেহ। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, তিনি দুই সপ্তাহ আগে মারা গেছেন। তবে ফরেনসিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও ভয়ানক সত্য—আসলে প্রায় ৯ মাস আগে মৃত্যু হয়েছিল ৩২ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর। দীর্ঘদিন ধরে নিথর পড়ে থাকায় মরদেহে ধরে পোকা, পচে গিয়েছিল মাংস, আর সেই ঘরে ছড়িয়ে পড়েছিল তীব্র দুর্গন্ধ।
এই অপ্রত্যাশিত মৃত্যু এবং এর পরবর্তী করুণ চিত্র পাকিস্তানের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ধাক্কায় ছড়িয়ে পড়ে, ছড়িয়ে পড়ে নানারকম প্রশ্নও। এতদিন ধরে কেউ খোঁজ নেয়নি—না আত্মীয়-স্বজন, না বন্ধু কিংবা সহকর্মীরা। এমনকি জানা যায়, হুমাইরার পরিবারের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। অস্পষ্ট হয়ে ওঠে তার সামাজিক অবস্থান, যা আরও বেশি করে আলোচনায় নিয়ে আসে অভিনেত্রীর নিঃসঙ্গতা এবং শোবিজের আড়ালে থাকা একাকীত্বের নির্মম বাস্তবতা।
এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় হুমাইরার একটি শেষ ভয়েস নোট, যা তিনি পাঠিয়েছিলেন তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ‘দুর এ শেহওয়া’-কে। সেই ভয়েস ক্লিপে ভেসে আসে এক মায়াভরা কণ্ঠ—
“আমি দুঃখিত, আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম, এখানে ওখানে ঘুরছিলাম। খুব খুশি হয়েছি শুনে যে তুমি মক্কায় আছো। আমার জন্য অনেক দোয়া করো প্লিজ। তোমার এই কিউটি বন্ধু কিংবা বোনের জন্য মন থেকে অনেক দোয়া করবে। আমার ক্যারিয়ারের জন্যও দোয়া করবে।”
সেই কণ্ঠ আজ আর নেই, কিন্তু তার আবেদন যেন রয়ে গেছে অসংখ্য শোনার হৃদয়ে।
অন্যদিকে, হুমাইরার নিখোঁজ হওয়ার পর ভাড়া সংক্রান্ত কারণে বাড়ির মালিক তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ না মেলায় পুলিশের কাছে যান তিনি। সেখান থেকেই পুলিশের অভিযান এবং চাবি ভেঙে দরজা খোলার পর উঠে আসে এই ভয়ঙ্কর সত্য।
পুলিশ সূত্র জানায়, পুরো ফ্ল্যাটটি ছিল ন্যূনতম মানবিক পরিবেশহীন। মরদেহটি ছিল বিছানায়, অর্ধগলিত অবস্থায়। তারা মনে করছে, মৃত্যুর সময় হুমাইরা একা ছিলেন এবং স্বাভাবিক মৃত্যুই হতে পারে—তবে ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
এক সময় ছোট পর্দার নিয়মিত মুখ হুমাইরা আসগর। বিজ্ঞাপন, নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে ক্যারিয়ার ঢলে পড়তে থাকে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মিডিয়া জগতের সঙ্গে।
এই মৃত্যু শুধু একটি প্রাণের অবসান নয়—এটি একটি প্রশ্নচিহ্ন, সমাজের দায়মুক্তির মুখে চেপে বসা এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা। কীভাবে একজন শিল্পী, একজন মানুষ—এভাবে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারেন সমাজের চোখের আড়ালে? শোবিজ অঙ্গন যেন আজ নীরব, আর হুমাইরার শেষ বার্তাটি এখন সবার কানে গুঞ্জন তুলছে—
“আমার জন্য দোয়া করো।”
কিন্তু এখন আর সে প্রার্থনার জবাব দেয়ার কেউ নেই।