রুশ বোমারু বিমান ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের আকাশে সতর্কতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯ বার
রুশ বোমারু বিমান

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাশিয়ার একটি সন্দেহভাজন দূরপাল্লার বোমারু বিমান যুক্তরাজ্যের আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হতে পারে—এমন আশঙ্কায় মঙ্গলবার বড় ধরনের সামরিক সতর্কতা জারি করে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত দুইটি আরএএফ টাইফুন যুদ্ধবিমান ও একটি রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েন করা হয়, ফলে স্কটল্যান্ডের আকাশে তৈরি হয় উচ্চমাত্রার সামরিক তৎপরতা।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সূত্র ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, স্কটল্যান্ডের লসিমাউথ বিমানঘাঁটি থেকে টাইফুন যুদ্ধবিমান দুটি উড্ডয়ন করে এবং অক্সফোর্ডশায়ারের ব্রাইজনর্টন ঘাঁটি থেকে একটি ভয়েজার রিফুয়েলিং বিমান তাদের সহায়তায় পাঠানো হয়। দ্রুত গতিতে সাড়া দেওয়া এই পদক্ষেপকে সম্ভাব্য আকাশসীমা লঙ্ঘন প্রতিরোধের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানগুলো স্কটল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব উপকূল এবং শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে অবস্থান নিয়ে সন্দেহভাজন রুশ বোমারু বিমানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। আকাশে দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত ওই বিমান যুক্তরাজ্যের আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিরক্ষা সূত্র।

ঘটনার পর টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে আসে। যদিও সরাসরি সংঘর্ষ বা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি, তবে ঘটনাটি ইউরোপের আকাশ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

এ ঘটনাকে ন্যাটোর বৃহত্তর আকাশ নজরদারি ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর আটলান্টিক ও ইউরোপীয় অঞ্চলের কাছাকাছি রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাজ্যের নিকটবর্তী জলসীমায় রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ, গোয়েন্দা জাহাজ এবং নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেলবাহী ট্যাংকারের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ইংলিশ চ্যানেলে রুশ নৌবাহিনীর তৎপরতা নিয়ে ব্রিটিশ নৌবাহিনী ঘনিষ্ঠ নজরদারি চালাচ্ছে।

সম্প্রতি একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ’ নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দুটি তেলবাহী ট্যাংকারকে নিরাপত্তা দিয়ে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে বলে জানা যায়। এ সময় ব্রিটিশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজও তাদের অনুসরণ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এর আগে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে বিশেষ বাহিনী ব্যবহার করে এসব জাহাজ জব্দ করা হতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত এমন কোনো সরাসরি অভিযান চালানো হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক সরকারের প্রতিরক্ষা নীতিকে সমালোচনা করে বলেছেন, সরকার মুখে কঠোর অবস্থান নিলেও বাস্তবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

এর আগে গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী উত্তর সাগরে একটি গোপন রুশ সাবমেরিন অভিযান নস্যাৎ করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি জানান, একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত অ্যাকুলা শ্রেণির সাবমেরিনসহ দুটি গোয়েন্দা জাহাজকে প্রায় এক মাস ধরে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাবমেরিনটি বিভ্রান্তিমূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং গোয়েন্দা জাহাজ দুটি সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাছাকাছি অবস্থান করছিল। যদিও কোনো ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও বিষয়টি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।

জন হিলি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্যের সমুদ্রতলীয় পাইপলাইন ও ডেটা কেবলসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর কোনো ধরনের হুমকি সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের প্রতিটি তৎপরতা নজরদারিতে রাখছি। কোনো ক্ষতির চেষ্টা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”

সামরিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা পশ্চিমা দেশগুলোর আকাশ ও সমুদ্র নিরাপত্তা কৌশল আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। বিশেষ করে রাশিয়া-ন্যাটো উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার যুক্তরাজ্যের আকাশসীমার কাছাকাছি রুশ সামরিক বিমানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ২০২০ সালে একই ধরনের পরিস্থিতিতে ছয়টি টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে দুটি রুশ দূরপাল্লার বিমানকে প্রতিহত করা হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে, যেখানে আকাশ ও সমুদ্র—দুই ক্ষেত্রেই নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত