সর্বশেষ :

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬: বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের সময় বাড়ল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার
এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬: বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের সময় বাড়ল

প্রকাশ: ২ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষা কেন্দ্রিক প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেও যারা বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, তাদের জন্য বিলম্ব ফিসহ ফের ফরম পূরণের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের মূল্যবান একটি বছর নষ্ট হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত দূর হলো। শিক্ষা বোর্ডের এই মানবিক ও নমনীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানুর স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই বর্ধিত সময়ের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা আগামী ১৫ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত বিলম্ব ফিসহ তাদের ফরম পূরণের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারবেন। এটি সেই সব শিক্ষার্থীদের জন্য এক দারুণ সুযোগ, যারা কোনো অগোচরে বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে আগের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফরম পূরণ করতে পারেননি। শিক্ষা বোর্ড সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধের সর্বশেষ সময়সীমা হিসেবে ১৬ জুন নির্ধারণ করেছে। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সামগ্রিক কাজ সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে এইচএসসি পরীক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। একটি নির্দিষ্ট বর্ষে পরীক্ষা দিতে না পারা মানেই উচ্চশিক্ষার সিঁড়িতে এক বছরের বিরতি। এই বিরতি কেবল একাডেমিক ক্ষতি নয়, বরং একজন শিক্ষার্থীর মনোবল ও ভবিষ্যতের লক্ষ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করেছেন, তাদের জন্য সময়মতো ফরম পূরণ করতে না পারা ছিল এক চরম মানসিক উদ্বেগের বিষয়। তবে বোর্ডের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীদের সেই উদ্বেগের মেঘ কেটে গেছে। এখন তারা পুনরায় নতুন উদ্যমে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে নিজেকে নিবেদিত করতে পারবেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতি বোর্ডের এই নির্দেশনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ভূমিকা ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব নয়। বোর্ড কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর অধ্যক্ষ বা প্রধানদের অবশ্যই এই দুই দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী যেন এই সুযোগের বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরই বর্তায়। অতীতে দেখা গেছে, অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে বা প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও সময়মতো ফরম পূরণ করতে ব্যর্থ হন। এবার সেই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার জন্য বোর্ডের এই বাড়তি সময় বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

পরীক্ষা ফরম পূরণ কেবল একটি প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি একজন শিক্ষার্থীর জীবনের ভবিষ্যতের প্রবেশপত্র। প্রতিটি পরীক্ষার পেছনে জড়িয়ে থাকে অগণিত রাতের পরিশ্রম, শিক্ষকদের পাঠদান এবং অভিভাবকদের অসীম ত্যাগ। তাই শিক্ষা বোর্ডের এই ধরনের সিদ্ধান্ত কেবল একটি আইনি বা প্রশাসনিক কাজ নয়, এটি হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্ন রক্ষার একটি মানবিক উদ্যোগ। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তাদের উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে নেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বোর্ড কর্তৃপক্ষ এই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এখন শিক্ষার্থীদের উচিত বোর্ডের দেওয়া এই শেষ সুযোগটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করা। ১৫ জুন থেকে ১৬ জুন এই দুই দিন সময় পাওয়া গেছে, তবে শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত ফরম পূরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অনেক সময় প্রযুক্তির ত্রুটি বা সার্ভারের ধীরগতি সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, তাই সময় থাকতেই দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা জরুরি। অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, তারা যেন শিক্ষার্থীদের এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেন।

পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষাবোর্ড যে উদ্যোগ নিয়েছে তা শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের সহমর্মিতারই বহিঃপ্রকাশ। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত পরীক্ষার মূল মঞ্চে পা রাখার পথ সুগম করবে—এটাই আমাদের কাম্য। কোনো শিক্ষার্থী যেন এখন আর পিছিয়ে না থাকে, সেই লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডসহ সারাদেশের সকল সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি নিষ্ঠার সাথে এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন করে, তবেই এই উদ্যোগের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যাবে। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফলের মাধ্যমে তাদের পরিশ্রমের যোগ্য স্বীকৃতি পাবে—এটিই এখন একমাত্র প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত