প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও এগিয়ে নিতে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অটোমেশন বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক আয়োজন। এই আয়োজনকে ঘিরে দেশের শীর্ষ তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে শিল্পখাতে আধুনিকায়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে প্রোডাক্ট লাইফসাইকেল ম্যানেজমেন্ট (পিএলএম) প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রিক সফটওয়্যার এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জুকুনু ইনক। যদিও জুকুনু ইনক মূলত ইনোভেশন পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল, তবে তাদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি আলোচনায় পরিণত হয়। দেশের তৈরি পোশাক খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরাও এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
এই আয়োজনে অংশ নেয় দেশের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো, যার মধ্যে রয়েছে হামীম গ্রুপ, মজুমদার গ্রুপ, এসকিউ গ্রুপ, এমএএস হোল্ডিংস, আজিম অ্যান্ড সন্স এবং নিট কনসার্ন গ্রুপ। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উৎপাদন প্রক্রিয়া, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের ব্যবহার। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হলে উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও স্মার্ট ও ডেটা-নির্ভর করতে হবে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পে সময়মতো উৎপাদন, খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে জুকুনু ইনকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা সাঈদ রিফাত নওয়েদ হুসেন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্রজন কুমার সাক্সেনা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, আধুনিক পোশাক শিল্প এখন আর শুধু শ্রমনির্ভর নয়, বরং ডেটা ও প্রযুক্তিনির্ভর একটি শিল্পে পরিণত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে অতীতের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ উৎপাদন পরিকল্পনা আরও নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হচ্ছে।
তাদের মতে, এআই ও অটোমেশন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অপচয় কমানো, সময় সাশ্রয় করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা সম্ভব। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সেন্ট্রিক সফটওয়্যারের সিনিয়র ডিরেক্টর নিকোলাস ওয়েই ইয়িক ডন বলেন, বিশ্বজুড়ে এখন ব্র্যান্ড ও উৎপাদকরা পণ্য জীবনচক্র ব্যবস্থাপনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত বাজারে পণ্য আনতে সক্ষম হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের মতো বড় উৎপাদনশীল দেশে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ইতোমধ্যেই বিশ্ববাজারে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। তবে ভবিষ্যতে এই অবস্থান ধরে রাখতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে আরও দ্রুত অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। এআই ও অটোমেশন সেই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হতে পারে।
শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন শুধু প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় না, বরং স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। বিশেষ করে ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন পরিকল্পনা ও সরবরাহ চেইন ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ করা সম্ভব হবে।
তারা আরও বলেন, পোশাক শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ভবিষ্যতে চাকরির ধরনেও পরিবর্তন আনবে। যেখানে কিছু প্রচলিত কাজ স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাবে, সেখানে নতুন প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বাড়বে। ফলে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, এই আয়োজন বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ডিজিটাল রূপান্তরের গতি আরও ত্বরান্বিত করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিল্পের সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই এআই ও অটোমেশন বিষয়ক আয়োজন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে ভবিষ্যতের স্মার্ট ফ্যাক্টরি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এই খাত বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।