সর্বশেষ :
২০২৬ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন, ফুটবল টুর্নামেন্টে নতুন যুগের ইঙ্গিত সোমালি রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইয়ান রাইট ২০২৬ বিশ্বকাপ: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? মিরসরাইয়ে নিখোঁজ তিন কিশোর উদ্ধার, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে মেলান্দহে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা

জেলে চিকিৎসা না পেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বিক্রম ভাটের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৬ বার
জেলে চিকিৎসা না পেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বিক্রম ভাটের

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত নির্মাতা ও প্রযোজক Vikram Bhatt কারাবাসের সময় পাওয়া চিকিৎসা অবহেলা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ৩০ কোটি টাকার একটি প্রতারণা মামলায় রাজস্থান পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রায় দুই মাস তাকে উদয়পুরের একটি সংশোধনাগারে থাকতে হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সম্প্রতি তিনি সেই কারাজীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যা ঘিরে ইতোমধ্যেই ভারতীয় বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিক্রম ভাট জানান, জেলের ভেতরে শীতের সময় তার শারীরিক অবস্থা মারাত্মকভাবে খারাপ হয়ে যায়। জানুয়ারির তীব্র ঠাণ্ডায় এক রাতে হঠাৎ করেই তার উচ্চ জ্বর আসে। তিনি বলেন, শরীর এতটাই কাঁপছিল যে একাধিক কম্বল গায়ে দিয়েও কোনো স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। সেই সময় জেলের পরিবেশে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

পরদিন তাকে জেল হাসপাতাল বা প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে ন্যূনতম চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, সেখানে এমনকি সাধারণ জ্বর মাপার থার্মোমিটারও ছিল না। চিকিৎসা ব্যবস্থার এই দুর্বলতা তার শারীরিক অবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তোলে।

পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা জানান, তার শরীরে এক ধরনের অটোইমিউন সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেই শরীরের উপর আক্রমণ করতে শুরু করে, যা সাধারণ জ্বর বা সংক্রমণের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে উচ্চ তাপমাত্রা তার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। তবে এই পরিস্থিতির পরও তাকে বাইরে উন্নত হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তা উপেক্ষিত হয় বলে দাবি করেন এই পরিচালক।

বিক্রম ভাট অভিযোগ করেন, তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও তাকে দীর্ঘ সময় জেলেই থাকতে বাধ্য করা হয়। প্রায় ১৫ দিন তিনি তীব্র ব্যথা ও দুর্বলতার মধ্যে কাটান। এই সময় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলেও জানান। তার দাবি, কারা কর্তৃপক্ষ জানায় যে জরুরি অবস্থা তৈরি না হলে বাইরে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব নয়।

এই অবস্থায় ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। পরে অবস্থা আরও খারাপ হলে শেষ পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে এই সময়টুকুতে তিনি যে কষ্ট ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে গেছেন, তা তার জীবনের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, কারাগারের ভেতরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত কঠিন ও অনিশ্চিত। অসুস্থ অবস্থায় পর্যাপ্ত যত্ন না পাওয়ার কারণে তিনি প্রায়ই নিজেকে অসহায় মনে করতেন। এমনকি অনেক সময় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়তেন এবং মুক্তির জন্য প্রার্থনা করতেন। তার ভাষায়, তিনি প্রায়ই এমন অনুভব করতেন যেন কোনো অলৌকিক ঘটনার অপেক্ষায় আছেন, যা তাকে সেই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনবে।

এই অভিজ্ঞতা তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলেও জানিয়েছেন বিক্রম ভাট। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও সংশোধনাগারের সেই দিনগুলোর স্মৃতি তাকে বারবার তাড়া করে বেড়ায়। তিনি মনে করেন, একজন বন্দীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ন্যূনতম চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যা তার ক্ষেত্রে যথাযথভাবে হয়নি।

এদিকে তার এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার ও কারা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।

বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, একজন পরিচিত চলচ্চিত্র নির্মাতার এমন অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং এটি কারা ব্যবস্থার ভেতরের বাস্তব চিত্র নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে চিকিৎসা অবহেলার বিষয়টি সামনে আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বর্তমানে বিক্রম ভাট স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও শারীরিক ও মানসিকভাবে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে সময় নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তিনি জানিয়েছেন, এই অভিজ্ঞতা তাকে জীবনের প্রতি নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি যেন আর কারও না হয়, সে বিষয়ে তিনি সচেতনতা তৈরির পক্ষে কাজ করতে চান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত