প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি ঘোষণা। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করা হবে—এমন স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জামায়াত যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতেই নেতৃত্ব নির্বাচন করবে।
রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বাড্ডায় আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, দুর্নীতি এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা ইস্যু তুলে ধরেন। তার এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ দুর্নীতি, লুটপাট ও ক্ষমতার অপব্যবহারের রাজনীতি দেখেছে। জনগণ এখন আর সেই রাজনীতি চায় না। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে দুর্নীতি দমনের কথা বললেও বাস্তবে ঋণ খেলাপিদের মনোনয়ন দিয়েছে। তার মতে, যাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে, তাদের আশ্রয় দিয়ে কখনোই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয়।
জামায়াত আমির বলেন, “একদিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ঋণ খেলাপিদের সংসদে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই দ্বিচারিতা দিয়ে জনগণকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না।” তিনি দাবি করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে জনগণ এই ধরনের রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখাবে এবং চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে।
নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করার ঘোষণার ব্যাখ্যায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বই দেশের জন্য প্রয়োজন। তার ভাষায়, রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতায় যাওয়া নয়, বরং জনগণের অধিকার রক্ষা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, নাহিদ ইসলামের মতো নেতারা যদি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পান, তাহলে দেশ দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক পথে এগোবে।
এই জনসভায় জামায়াতের নেতারা দাবি করেন, ১১ দলীয় জোটের লক্ষ্য কেবল নির্বাচন জেতা নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। বক্তারা বলেন, গত কয়েক বছরে দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন ও সামাজিক কাঠামোতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য নতুন ধরনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন।
জনসভায় উপস্থিত অনেক সমর্থক ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে বলেন, তারা পরিবর্তনের রাজনীতি দেখতে চান। তাদের মতে, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে এই বক্তব্য ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করার ঘোষণা দিয়ে জামায়াত একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ সরকারের রূপরেখা তুলে ধরার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে তেমনি জোট রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে। এটি নির্বাচনি কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যেখানে সম্ভাব্য নেতৃত্বের নাম আগেভাগে প্রকাশ করে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বাড্ডার এই জনসভা থেকে দেওয়া ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসে দুর্নীতি বিরোধী অবস্থানকে প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে আনতে চায়। ক্ষমতায় গেলে কাদের নিয়ে সরকার গঠন করা হবে, সেই বার্তাও তারা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটাররা এই বার্তাকে কতটা গ্রহণ করেন এবং নির্বাচনের ফলাফলে এর কী প্রভাব পড়ে।