প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট মাঠে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় শাপলা কলির প্রার্থী নাহিদ ইসলাম দেশকে বিপদগ্রস্ত করার চেষ্টা চালানো একটি দলের প্রতি কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
নাহিদ বলেন, ‘বাড্ডার মানুষ ঢাকার এত কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে নানা অবহেলা এবং বঞ্চনার শিকার। ভেতরের দিকে গেলে মনে হবে এটি যেন মফস্বলের কোনো এলাকা। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এই বাড্ডা ও রামপুরা হয়ে উঠেছিল আন্দোলন এবং প্রতিরোধের অন্যতম হটস্পট। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধে ফ্যাসিস্টরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে জনগণ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন বাজি রেখেছে। ‘ঢাকা-১১ আসনের বহু মানুষ তাদের জীবন দিয়েছেন, বহু মানুষ আহত হয়েছেন,’ তিনি বলেন। নাহিদ আশ্বাস দেন, তিনি নির্বাচিত হলে এই ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন।
বিভাজন ও রাজনৈতিক অনিয়মকে এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘ভূমি দখল একটি গুরুতর সমস্যা। এই এলাকার শত শত মানুষের জমি, খাস জমি, এবং সাধারণ জলাশয় দখল ও ভরাট করা হয়েছে। যারা রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিলেন, তাদের মধ্যেই ভূমিদস্যু হিসেবে কাজ করা বা ভূমিদস্যুদের সহায়তা করার ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের আগে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা গত ৩০ বছর ধরে এই ভূমি দখল ও ভাগ-বাটোয়ারার মাধ্যমে জনগণের স্বার্থে নয়, নিজের স্বার্থে কাজ করেছেন। ‘রাজনৈতিক কারণে কিছু বিরোধিতা করা হলেও ব্যবসায়িক স্বার্থে সবসময় ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল,’ নাহিদ বলেন।
নাহিদ বলেন, ‘একজন বিদেশে ১৫ বছর থাকার পর ফিরে আসেন। কিন্তু মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি এখানে এসে দখলদারদের অফিস ও গাড়ি দখল করেছে। এভাবে জনগণের স্বার্থে নয়, বরং দখলদারদের স্বার্থে এই হাতবদল হয়েছে।’ তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ঢাকা-১১ আসনের ভূমিদস্যুদের চিরতরে নির্মূল এবং এলাকার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার জন্য নির্বাচিত হলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যেসব পরিবার ভূমি হারিয়েছে, তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়ার অথবা ন্যায্যমূল্য প্রদান করার ব্যবস্থা করা হবে।
নাহিদ আরও বলেন, ‘এবার একটি দল দেশকে বিপদগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করছে। আমরা সেই পরিকল্পনাকে পরাজিত করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। দেশের জনগণকে দখলদার, আধিপত্য ও সন্ত্রাস মুক্ত করতে হলে সেই দিন আমাদের দায়িত্ব পালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যর্থ হলে ৫ আগস্টের লক্ষ্যও ব্যর্থ হবে।’
জনসভায় অংশ নেওয়া মানুষ ও এলাকার সাধারণ ভোটাররা নাহিদের বক্তব্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার এই এলাকা এখন সঠিক নেতৃত্বের অধীনে সঠিক উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা পেতে পারে। ভোটাররা আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে তারা নাহিদকে সুযোগ দেবেন যাতে প্রতিশ্রুতিকৃত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঢাকা-১১ আসনে ভোটাররা দীর্ঘদিনের দফতর ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রভাব উপলব্ধি করে ভোট দেবেন। নাহিদের বক্তব্যে তুলে ধরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য, ভূমি দখল, এবং স্থানীয় উন্নয়নের অভাব ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে যুবক ও শিক্ষার্থী ভোটাররা আগামী ভোটকে শুধুমাত্র দলবদলের নয়, বরং বাস্তব উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায্যতার সঙ্গে সংযুক্ত বলে মনে করছেন।
নাহিদের জনসভা ও বক্তব্য বাংলাদেশের রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে এবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছে। তিনি শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেননি, বরং দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও অবহেলার প্রতিকার ও ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই জনসভা স্থানীয় জনগণ ও ভোটারদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রত্যাশা তৈরি করেছে, যা আগামী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।